“ইস্পাত আমদানিতে ৫০ শতাংশ শুল্ক”-ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে ভারতের ওপর কী প্রভাব?

আমেরিকান ইস্পাত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি ইস্পাত আমদানির উপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। পেনসিলভেনিয়ার ইউএস স্টিলের মন ভ্যালি ওয়ার্কস-আরভাইন প্ল্যান্টে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্পের এই ঘোষণা বিশ্ব বাণিজ্য মহলে নতুন করে শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
রয়টার্স সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, এই শুল্ক বৃদ্ধির প্রধান লক্ষ্য হলো আমেরিকান ইস্পাত শিল্পকে সুরক্ষিত করা এবং দেশের ভবিষ্যৎ ‘সাংহাই থেকে আসা সস্তা ইস্পাতের’ উপর নির্ভর না করে ‘পিটসবার্গের শক্তি এবং গর্ব’ দিয়ে গড়ে তোলা। তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্টতই চীনের মতো দেশগুলিই প্রধান নিশানা।
এই প্রস্তাবিত শুল্ক বৃদ্ধি কার্যকর হলে আবাসন, মোটরগাড়ি এবং নির্মাণ খাত সহ ইস্পাতের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল শিল্পগুলির জন্য উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো ইস্পাতের উপর শুল্ক আরোপের পর থেকে ইস্পাত পণ্যের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার মধ্যেই ট্রাম্প জাপান-ভিত্তিক নিপ্পন স্টিলের সঙ্গে ইউএস স্টিলের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ চুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তির ফলে ইউএস স্টিল একটি আমেরিকান কোম্পানি হিসেবেই থাকবে, যা আমেরিকান ইস্পাত কর্মীদের জন্য কোনো ছাঁটাই বা চাকরি স্থানান্তরের ইঙ্গিত বহন করে না। যদিও নিপ্পন স্টিল এই অংশীদারিত্বে সমর্থন জানিয়েছে, তবে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্তাবলী এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
জানা গেছে, জাপানি কোম্পানি নিপ্পন স্টিল মার্কিন পাবলিক সেক্টর কোম্পানি ইউএস স্টিলকে অধিগ্রহণ করবে এবং পেনসিলভেনিয়া, ইন্ডিয়ানা, আলাবামা, আরকানসাস এবং মিনেসোটায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। তবে, এই চুক্তি নিয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি, যা এর ভবিষ্যত নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের এই নতুন শুল্কনীতি বৈশ্বিক ইস্পাত বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অতীতে তাঁর শুল্ক আরোপের ফলে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। এবার ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে অন্যান্য দেশগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তার উপরই নির্ভর করবে এই পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব।