৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে মোদীর পর আজ বাংলায় অমিত শাহ, ২০২৬-এর র জন্য কী কী কর্মসূচি?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উত্তরবঙ্গ সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দক্ষিণবঙ্গের রণনীতি সাজাতে রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দলের দুই শীর্ষ নেতার ঘনঘন বঙ্গ সফর গেরুয়া শিবিরে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বিশেষত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শাহের ২০ ঘণ্টার মিশন:

শনিবার রাতে কলকাতায় পৌঁছবেন অমিত শাহ। নিউটাউনের একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সারবেন তিনি। রবিবার তাঁর ঠাসা কর্মসূচি। প্রথমে রাজারহাটের একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এরপর যাবেন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। সেখানেই রয়েছে তাঁর মূল সাংগঠনিক সভা। জানা গিয়েছে, মণ্ডল স্তর পর্যন্ত সমস্ত নেতাদের নিয়ে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের বিস্তারিত রণনীতি নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদারকে কড়া নির্দেশিকাও দিতে পারেন শাহ। এছাড়াও, সিমলা স্ট্রিটে স্বামী বিবেকানন্দের বাসভবনে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করারও সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। রবিবার বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটের ফ্লাইটে তিনি দিল্লি ফিরে যাবেন।

তিন তাসেই বাজিমাত?

আসন্ন নির্বাচনের প্রচারে বিজেপি মূলত তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে এগোচ্ছে। প্রথমত, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারতীয় সেনার সাফল্যকে তুলে ধরে জাতীয়তাবাদের সুর চড়ানো। দ্বিতীয়ত, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং ২৬ হাজার চাকরিহারার যন্ত্রণাকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অন্যতম হাতিয়ার করা। সর্বোপরি, তৃণমূলের ‘তোষণের রাজনীতি’র অভিযোগ তুলে হিন্দু ভোটকে এককাট্টা করার চেষ্টা করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও আলিপুরদুয়ারের ৩২ মিনিটের বক্তৃতায় এই তিনটি বিষয়ের উপরই জোর দিয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছে, অমিত শাহও সেই সুরেই সুর মেলাবেন এবং এই বিষয়গুলিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার নির্দেশ দেবেন।

নজরবন্দি দিলীপ ঘোষ ও নয়া সভাপতি:

প্রধানমন্ত্রীর আলিপুরদুয়ারের সভায় দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি করেছে। অমিত শাহের সাংগঠনিক সভায় তাঁর উপস্থিতি নিয়েও সকলের কৌতূহল। এছাড়াও, রাজ্য বিজেপির নয়া সভাপতি নির্বাচন নিয়েও শাহের এই সফরে বিস্তর আলোচনা হতে পারে বলে খবর। সামগ্রিকভাবে, অমিত শাহের এই ২০ ঘণ্টার বঙ্গ সফর যে রাজ্য বিজেপির জন্য এক নতুন দিকনির্দেশনা দেবে, তা বলাই বাহুল্য। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সফর গেরুয়া শিবিরের আত্মবিশ্বাসকে কতটা বাড়িয়ে তোলে এবং তৃণমূলের উপর কতটা চাপ সৃষ্টি করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।