ফোনে IC-কে অশালীন ভাষায় হুমকি অনুব্রতর! অডিয়ো পোস্ট সুকান্তর, বললেন “পুলিশ সুরক্ষিত না হলে….”

ফের একবার পুলিশকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বীরভূম জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার শুক্রবার সকালে একটি ভিডিও পোস্ট করে এমনই দাবি করেছেন, যেখানে একটি অডিও ক্লিপে অনুব্রত মণ্ডলকে বোলপুর থানার আইসি-কে ফোনে হুমকি দিতে শোনা যাচ্ছে বলে অভিযোগ।

সুকান্ত মজুমদার তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, “এই ভাইরাল হওয়া ফোনালাপটি শুনলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, রাজ্যের দুর্দমনীয় এবং দোর্দণ্ডপ্রতাপ মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহের চাদরের তলায় কিভাবে ভয়াবহ সমাজবিরোধী ত্রাস’রা সযত্নে সুরক্ষিত রয়েছে! বীরভূমের ছাল ছাড়ানো বাঘ, যার কিনা মাঝে মধ্যেই ব্রেইনে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় — তিনি একজন পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে ঠিক কি ভাষায় কথা বলছেন! আর এই কথপোকথন প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনে কি প্রভাব পড়বে? বড় জোর ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই হয় ওই আধিকারিককে ক্লোজ করা হবে, নাহলে সুন্দরবনে বদলি! আমি চাই, পুলিশ মন্ত্রী Mamata Banerjee ও রাজ্যের ডিজি সাহেব রাজীব কুমার দ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত করে রাজ্যবাসীর কাছে জবাবদিহি করুন। তৃণমূলের নেতাদের কাছে পুলিশ সুরক্ষিত না হলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা!”

অডিও ক্লিপে কী রয়েছে?
অভিযুক্ত অডিও ক্লিপটিতে অনুব্রত মণ্ডলকে বোলপুরের আইসি-র সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। এমনকি তাঁর পরিবার নিয়েও আক্রমণ করতে শোনা যাচ্ছে তাঁকে। আইসি-কে থানা থেকে টেনে বার করে মারধর করার হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অনুব্রত মণ্ডলের পাল্টা দাবি:
তবে, অনুব্রত মণ্ডল নিজেই এক সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযোগ অস্বীকার করেননি, বরং পাল্টা অভিযোগ করেছেন বোলপুরের আইসি-র বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেন, বোলপুরের আইসি মানুষকে ফোনে হুমকি দিয়ে টাকা চাইছেন। এমনকি বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্তদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দিচ্ছেন। অনুব্রত আরও বলেন, “আমি ডিজিপি রাজীব কুমার থেকে শুরু করে এসপি পর্যন্ত সবার কাছে ফোন করে ওকে অপসারণের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এবার নিজেদের সরকারের পুলিশের বিরুদ্ধে নিজেই ডেপুটেশন দিতে পারি না।”

আইসি-র দাবি: অডিও ক্লিপ ভুয়ো: এদিকে, বোলপুর থানার আইসি অবশ্য এই অডিও ক্লিপটিকে ভুয়ো বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, এই অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়।