বিহার নির্বাচনকে সামনে রেখে মোদির কড়া বার্তা! দলবদলুদের প্রতি কঠোর অবস্থান

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজেপির রাজ্য নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিদ্রোহী ও দলবদলকারী নেতাদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন। একইসাথে, তিনি দলের রণনীতিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য প্রচার, ডিজিটাল উপস্থিতি জোরদার করা এবং বুথ স্তর মজবুত করার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ভোটের মুখে যারা দল ছেড়ে অন্যত্র যান এবং ভোট মিটলে আবার ফিরে আসেন, তাদের কারণে দলের ভিত নড়ে যায়। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় অনেকে অন্য দলে চলে যান, আবার ভোট মিটলে ফিরে আসেন। এতে দলের প্রতি সৎ ও পরিশ্রমী কর্মীদের গুরুত্ব কমে যায়।” তিনি দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “দলে সম্মান ও স্বীকৃতি একদিনে আসে না। ধৈর্যই একজন নেতার সবচেয়ে বড় পুঁজি।” এই বার্তা বিহারের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে, যেখানে দলবদল একটি সাধারণ ঘটনা, সেখানে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে। পহেলগাঁও হামলার প্রতিশোধে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছিল। মোদির কথায়, “এই অভিযান শুধু জবাব ছিল না, পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী মুখোশকে গোটা বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করে দিয়েছে।” তিনি বলেন, “মানুষকে জানান কীভাবে আমরা পাকিস্তানকে কড়া জবাব দিয়েছি। এই বার্তা প্রত্যেক নাগরিকের কাছে পৌঁছাতেই হবে।” জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই বিষয়টিকে নির্বাচনী প্রচারে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে বিজেপি।
বিজেপির প্রার্থী নির্বাচনে পরিবারতন্ত্র ও প্রভাব খাটানোর প্রবণতার তীব্র বিরোধিতা করেছেন মোদি। তিনি বলেছেন, “রাজনীতিতে জমিদারি চলতে পারে না। আপনি না পেলে আপনার ছেলে— এই মানসিকতা বন্ধ হওয়া উচিত। যোগ্যতার ভিত্তিতেই টিকিট দেওয়া হবে।”
বর্তমান যুগে ডিজিটাল যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “যে কেউ বিজেপির টিকিট পেতে চাইছেন, তাঁর অন্তত ৫০,০০০ সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার থাকা উচিত। সংগঠনের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল উপস্থিতিও এখন অপরিহার্য।”
বুথ স্তরে সংগঠন মজবুত করার ওপরও বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রত্যেক কর্মীই দলের সম্পদ। বুথ মজবুত হলে, জয় আসবেই। মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাতে হবে, তাঁদের আস্থা অর্জন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।”
এইবারের নির্বাচনে বিজেপি ও জেডিইউ যৌথভাবে আরজেডি-কংগ্রেস-বাম জোটের বিরুদ্ধে লড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, যিনি রাজনৈতিক ঘরবদলের জন্য ‘পল্টু রাম’ নামে পরিচিত, কুরমি ভোটব্যাংকে তার জনপ্রিয়তার কারণে বিজেপির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত বছরের জানুয়ারিতে নবমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নীতীশ, এনডিএ-তে ফিরে এসে। এই বৈঠক থেকেই কার্যত বিহার ভোটের প্রস্তুতির সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী। সংগঠনের শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং জনসংযোগ— এ তিনে ভর করেই বিজেপির নতুন রণনীতি সাজাচ্ছে দলীয় নেতৃত্ব।
আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এই নতুন কৌশল কতটা সফল হয়, এবং মোদির এই কঠোর বার্তা দলের অন্দরে ও ভোটারদের মধ্যে কেমন প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।