‘অর্ধনগ্ন মহামিছিল’ শুরুর আগেই ব্যাপক ধরপাকড়, আটক অনেক চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা

চাকরির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ‘অর্ধনগ্ন মহামিছিল’ শুরুর আগেই শুক্রবার সকালে শিয়ালদা চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল। মিছিল শুরুর কথা ছিল সকাল ১১টা নাগাদ শিয়ালদা থেকে। আন্দোলনকারীরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করলেই পুলিশি তৎপরতা বাড়ে। মেট্রো স্টেশনের বাইরে থেকেই বেশ কয়েকজন চাকরিহারাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ। শিয়ালদা চত্বরে পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
চাকরিহারাদের মিছিল রুখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পুলিশ। শিয়ালদা স্টেশন চত্বর কার্যত পুলিশে ছয়লাপ হয়ে আছে। বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে।
পুলিশের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছেন চাকরিহারা শিক্ষিকারা। তাঁরা বলেন, “আন্দোলনকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা কিছুই করিনি, অথচ আমাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হল।” এক চাকরিহারা শিক্ষক মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, রাজধর্ম পালন করুন।” উল্লেখ্য, চাকরিহারারা নতুন করে পরীক্ষায় বসার বিরোধিতা জানিয়ে সরব হয়েছেন।
সম্প্রতি এসএসসি নিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আপাতত চাকরিহারাদের নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে। আগামী ৩১শে মে-র মধ্যেই চাকরির নোটিফিকেশন দেবে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৩০শে মে চাকরির বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ১৬ই জুন থেকে চাকরির জন্য আবেদন করা যাবে এবং ১৪ই জুলাই অনলাইনে আবেদনের শেষ দিন।
প্রাথমিকভাবে শীর্ষ আদালত ২৪ হাজার ২০৩টি পদে নিয়োগের কথা বলেছিল। তবে রাজ্য সরকার আরও পদ বাড়িয়ে মোট ৪৪ হাজার ২০৩টি পদে নিয়োগ করবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। এর মধ্যে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি পদও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, বয়সের কারণে কেউ পরীক্ষায় বসতে পারবেন না, এমনটা হবে না। প্রত্যেকেই পরীক্ষায় বসতে পারবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “যাঁরা চাকরি করে এসেছেন, অথচ বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, চাকরিহারাদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বয়সে ছাড় দেওয়া হবে। বয়সের জন্য আটকাবে না। প্রত্যেকেই পরীক্ষায় বসতে পারবেন। যাঁরা এতদিন কাজ করেছেন, তাঁদের এক্সপেরিয়েন্স অ্যাডভান্টেজ দেব, যাতে তাঁরা তাঁদের কর্মস্থানে থেকে যেতে পারেন।”
চাকরিহারাদের এই আন্দোলন এবং সরকারের নতুন পরীক্ষা পদ্ধতির ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে আরও জটিলতা তৈরি করেছে। এখন দেখার, এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।