মোদীর সফর ঘিরে আলিপুরদুয়ারে কার্যত ধর্মঘট! চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

প্রধানমন্ত্রীর আলিপুরদুয়ার সফরকে কেন্দ্র করে কার্যত পরিবহণ ধর্মঘটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গোটা শহরে। জাতীয় সড়কে বড় লরি বা পণ্যবাহী গাড়ির দেখা মেলেনি। রাস্তায় হাতে গোনা কয়েকটি অটো ছাড়া অন্য কোনও যানবাহন নেই। এর ফলে নিত্যযাত্রী এবং জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষদের চরম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। রাস্তার ধারের বেশিরভাগ দোকানপাটও বন্ধ। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আলিপুরদুয়ার যেন এক অঘোষিত বনধের কবলে পড়েছে।
বিভিন্ন জায়গা থেকে যাঁরা প্রতিদিনের কাজ বা চিকিৎসার জন্য আলিপুরদুয়ারে আসছেন, তাঁদের এদিন চরম বিপাকে পড়তে হয়েছে। কুমারগ্রাম, বারোবিশা থেকে আসা বেসরকারি গাড়িগুলোকে চেকিং পয়েন্টে আটকে দেওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে অনেকটা পথ হেঁটে আলিপুরদুয়ার শহরে পৌঁছতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা। আলিপুরদুয়ারের চোপথি পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে পৌঁছচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা।
অন্যদিকে, বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের গাড়িগুলোকেও বিএম ক্লাবের মাঠে, বীরপাড়া, জাংশনে আটকে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। বীরপাড়া কালজানি সেতু থেকে পায়ে হেঁটে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যেতে হচ্ছে বহু বিজেপি কর্মী-সমর্থককে। অনেকে আবার আলিপুরদুয়ার বাস টার্মিনাস থেকেও পায়ে হেঁটে প্যারেড গ্রাউন্ডের দিকে রওনা দিয়েছেন।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেছে বেছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের গাড়িগুলোকে সভায় যাওয়ার জন্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষজন যাঁরা গাড়ি ভাড়া করে বা অটোতে করে আলিপুরদুয়ার শহরে অন্য কোনও কাজে যাচ্ছেন, তাঁদের চেকিং পয়েন্টেই আটকে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাওয়ার জন্য বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পুলিশ যথেষ্ট সহযোগিতা করছে।
বিজেপি নেতা বাপী গোস্বামী জানান, “আমাদের লক্ষ লক্ষ কর্মী সমর্থক আজ আলিপুরদুয়ারে আসবেন। তাঁদের যদি আটকে দেওয়া হয় তাহলে পুলিশেরই সমস্যা বাড়বে। তাই পুলিশ আজ আমাদের কর্মী সমর্থকদের গাড়ি নিয়ে আসতে দিচ্ছে। সব পুলিশ তো আর খারাপ নয়। আজ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি অনুষ্ঠান ও জনসভা। অপারেশন সিঁদুরের পর বাংলায় প্রথম সভা। ফলে মানুষের একটা আবেগ কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য। প্রচুর মানুষ আজ মোদিকে দেখতে আসছেন। লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হবে আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডে।”