জ়িরো FIR-এ গণধর্ষণের মামলা শুরু হলো বাংলায়, জেনেনিন কি এই জিরো FIR ?

তিন বছর আগে কলকাতায় গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন এক কিশোরী, যিনি এখন উনিশ বছরের তরুণী। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন খোদ ‘ভিক্টিম’-এরই আত্মীয়! হরিয়ানার মুর্থাল থেকে ওই তরুণী যে এফআইআর দায়ের করেছেন, সেটি কলকাতার হেস্টিংস থানায় পাঠানো হয়েছে এবং জিরো এফআইআর-এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সময়ে অভিযোগকারিণী কিশোরী থাকায়, এই মামলায় পকসো আইনেও রুজু করা হয়েছে।

কলকাতার হেস্টিংস থানা এই ক্ষেত্রে জিরো এফআইআর-এর ভিত্তিতে পদক্ষেপ করেছে। উল্লেখ্য, জিরো এফআইআর হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে অপরাধের ঘটনাস্থল যেখানেই হোক না কেন, ভারতের যেকোনো থানায় সে ব্যাপারে এফআইআর করা যেতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো, থানা এলাকার আওতা নিয়ে টালবাহানায় যেন তদন্ত শুরু করতে দেরি না হয় এবং পুলিশি পদক্ষেপ দ্রুত হয়। হরিয়ানার মুর্থাল পুলিশ ৮ মে কলকাতা পুলিশকে জিরো এফআইআর-এর বিবরণ পাঠিয়ে দেয়, যার পরই হেস্টিংস থানা এফআইআর দায়ের করে।

ঘটনার বছর তিনেক পর ওই তরুণী কৈশোরে তাঁর উপর হওয়া অত্যাচারের বিস্তারিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের আগস্ট মাসে যখন তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর, তখন উচ্চশিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে দিদির শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসে। অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, সেটি আসলে ছিল একটি ফাঁদ।

ঘটনাটি ঘটে হেস্টিংস থানা এলাকার অন্তর্গত একটি বাড়িতে। নিগৃহীতার অভিযোগ, ২০২২ সালের আগস্ট মাসে তাঁর ভগ্নীপতি এবং ভগ্নীপতির ভাই তাঁকে মাদক খাইয়ে যৌন নির্যাতন চালায়।

গণধর্ষণের শিকার ওই তরুণী আরও অভিযোগ করেছেন যে, সেই সময়ে তিনি ঘটনার কথা তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের জানানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা তাঁর ছোট ভাইয়ের চরম ক্ষতি করার হুমকি দিয়েছিল। এরপর ব্ল্যাকমেল করে আরও কিছুদিন ওই কিশোরীর উপর যৌন অত্যাচার চালানো হয়েছিল।

নির্যাতিতা আরও জানান যে, তাঁর দিদি প্রায়শই গার্হস্থ্য হিংসার শিকার হতেন। পরে নির্যাতিতাকে ওই বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, হেস্টিংস থানা ঘটনার বিবরণ পেয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের তরফে সমস্ত তথ্য চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (সিডব্লিউসি)-কেও জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার বয়ান রেকর্ড করা হবে এবং তিন বছর আগে হওয়া ঘটনা সম্পর্কে অভিযোগ জানাতে এত দিন তিনি কোথায়, কাদের কাছ থেকে এবং কী পরিস্থিতির জন্য বাধা পেয়েছিলেন, সে বিষয়েও তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন। এই ঘটনা একদিকে জিরো এফআইআর-এর কার্যকারিতা তুলে ধরছে, অন্যদিকে পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে এমন জঘন্য অপরাধের ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।