‘জগন্নাথ এফেক্ট’ নিয়ে জল্পনা! মোদীর জনসভায় দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি

স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির দর্শন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়েছিল। তৃণমূল ও দিলীপ ঘোষ বিষয়টিকে রাজনৈতিক সৌজন্যতা বললেও, বিজেপির অন্দরে অসন্তোষের ঝড় ওঠে। এমনকি দিলীপ ঘোষ দলত্যাগ করতে পারেন বলেও জল্পনা ছড়িয়েছিল। তবে দিলীপবাবু নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন।

কিন্তু বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি নতুন করে জল্পনা উস্কে দিয়েছে। বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও মোদীর সভায় তিনি আমন্ত্রিত না হওয়ায় দলের অন্দরের কোন্দল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীর পূর্বঘোষিত সিকিম সফর খারাপ আবহাওয়ার কারণে বাতিল হওয়ায় তিনি আলিপুরদুয়ারে সভা করেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই সভা থেকে মোদী রাজ্য বিজেপির রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি ‘জগন্নাথ এফেক্ট’ হিসেবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চিত হচ্ছে।

দিলীপ ঘোষ অবশ্য নিজেকে দলের সাধারণ কর্মী বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি দলীয় নির্দেশ মেনে চলেন। মোদীর সভায় তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারী নীরবতা বজায় রেখেছেন।

বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে মোদী প্রথমে প্রশাসনিক কর্মসূচিতে যোগ দেন এবং পরে রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের এক বছর আগে মোদীর এই সফর রাজ্য বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন সাংসদ জন বার্লা বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাঁর দলত্যাগ বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা। দিলীপ ঘোষ নিজেও বলেছিলেন, বার্লার দলত্যাগের কারণ দলকেই বিশ্লেষণ করতে হবে। জন বার্লার দলত্যাগের পর উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে। জানা যাচ্ছে, উত্তরবঙ্গের একাধিক হেভিওয়েট বিজেপি নেতা তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গার সঙ্গে জন বার্লার দ্বন্দ্ব ছিল তীব্র। কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকও পরাজয়ের পর নীরব। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গ নিয়ে বিজেপি চিন্তিত।