ট্রাম্প-মাস্ক বন্ধুত্বের সম্পর্কে চিড়? ট্রাম্পের দেওয়া প্রশাসনিক পদ ছাড়লেন ইলন মাস্ক

প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসনে যোগদানের কয়েক মাস পরেই তাঁর তৈরি ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্মেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (সংক্ষেপে ডজ) বিভাগের প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক। একদা ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম আর্থিক পৃষ্ঠপোষক ইলন মাস্কের এই আকস্মিক পদত্যাগকে রাজনৈতিক মহলে ট্রাম্প-মাস্ক বন্ধুত্বের সম্পর্কে চিড় ধরা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার ইলন মাস্ক নিজেই ঘোষণা করেন যে, ডজ বিভাগে তাঁর নেতৃত্বের ‘সময় শেষ হয়েছে’। ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক গঠিত এই খরচ কমানো এবং দক্ষতা বৃদ্ধির দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগটিও নিশ্চিত করেছে যে মাস্ক তাঁর পদ ছেড়ে দিয়েছেন।

জানা গেছে, ইলন মাস্ককে একজন বিশেষ সরকারি কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল, যেখানে বছরে ১৩০ দিন সরকারের জন্য কাজ করার অনুমতি ছিল। মে মাসের শেষভাগেই তাঁর এই পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই তিনি নিজের বিদায়ের কথা ঘোষণা করলেন। বিদায়বেলায় তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি। মাস্ক তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”

উল্লেখ্য, ট্রাম্প প্রশাসনে যোগদানের পর থেকেই ইলন মাস্ককে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। তাঁর এই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কারণে ক্ষুব্ধ জনগণ তাঁর গাড়ি কোম্পানি টেসলাকেও বয়কট করার ডাক দেয়। এর ফলে টেসলার বিক্রি এবং শেয়ারের মূল্যেও ব্যাপক পতন ঘটেছিল।

সম্প্রতি, ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বাজেট বিল নিয়ে মাস্ক প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে, এই বিলটি সরকারের ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যকে ব্যাহত করবে। এই মন্তব্যের কিছুদিনের মধ্যেই মাস্কের পদত্যাগের ঘোষণা আসে। যদিও মাস্ক বা ট্রাম্প কেউই পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট করেননি, তবে এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনার জন্ম দিয়েছে।