পুলিশ স্টেশনের পাশেই ভয়ানক বিস্ফোরণ, ডায়মন্ড হারবারে দাউ দাউ করে জ্বললো আগুন

বুধবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার অদূরে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, থানার পিছনের দিকে একটি পুকুরপাড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ কেজি বাজেয়াপ্ত করা কাঁচা বারুদ মজুদ করে রাখা ছিল। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ হঠাৎই সেই বারুদের স্তূপে আগুন লেগে যায় এবং বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এই ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর নেই এবং আশপাশের ঘরবাড়িরও বড় মাপের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডায়মন্ড হারবার থানা এলাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে নিষিদ্ধ শব্দবাজি ও বিস্ফোরক দ্রব্য বাজেয়াপ্ত করে থানার মালখানায় না রেখে পুকুরের ধারে একটি উন্মুক্ত স্থানে রাখা হয়েছিল। বুধবার সন্ধ্যায় সেখানেই আগুন লেগে বিস্ফোরণ হয়। ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি অমরজিৎ বিশ্বাস জানিয়েছেন, বম্ব স্কোয়াড ডাকার আগেই সম্ভবত বৃষ্টির কারণে এবং জলের পাশে থাকার কারণে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং থানারও কোনো ক্ষতি হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে ডায়মন্ড হারবার শহরের বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ডায়মন্ড হারবার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মাধবপুর এলাকা কেঁপে ওঠে এবং গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়। খবর পেয়ে ডায়মন্ড হারবার দমকল বিভাগের একাধিক ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, লাগাতার বৃষ্টির কারণেই বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে, কারণ এতে বারুদের বিস্তার সীমিত ছিল।

পুলিশের ব্যাখ্যা এবং রাজনৈতিক বিতর্ক
বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে ডায়মন্ড হারবার থানার তরফে পরে একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। তাদের এক্স হ্যান্ডেলে জানানো হয়, থানার থেকে দূরে পুকুর পাড়ে আটক করা কিছু বাজি জমা করে রাখা হয়েছিল। সেখানে সম্ভবত বজ্রপাত থেকে অগ্নিসংযোগ ঘটে। থানায় অগ্নিকাণ্ডের খবরটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য বলে দাবি করা হয়েছে। থানার তরফে বলা হয়, এর বিন্দুমাত্র আঁচ থানায় লাগেনি এবং কোনো কর্মচারীর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তবে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একটি ভিডিও পোস্ট করে এক্স মাধ্যমে লেখেন, “ডায়মন্ড হারবার থানা বিস্ফোরণে ভস্মীভূত। জানা যাচ্ছে আটক করা বিস্ফোরক থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। হারবার থানা ভয়াবহ আগুনে প্রায় ভস্মীভূত। দমকল আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।” তিনি আরও লিখেছেন, “অবৈধ বিস্ফোরক মজুত করা হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখার জন্যে দাবি জানাচ্ছি।” তার এই দাবি পুলিশের ব্যাখ্যাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং পুলিশের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনা জননিরাপত্তা এবং বাজেয়াপ্ত বিস্ফোরক মজুদের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।