পাকিস্তানে ধ্বংসযজ্ঞের বড় প্রমাণ, ২ বড় বিমানঘাঁটিতে হামলার ছবি ধরা পড়লো স্যাটেলাইটে

পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুধু সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ছিল না, বরং পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতার উপর একটি নিখুঁত কৌশলগত আঘাত। ২০২৫ সালের ৭ মে শুরু হওয়া এই অভিযান, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ২২ এপ্রিলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে ২৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লস্কর-ই-তৈয়বার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে দায়ী করে।

হামলার কারণ ও লক্ষ্যবস্তু:
ভারতের পাল্টা প্রতিশোধমূলক অভিযান ৮ থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলে, যেখানে পাকিস্তানের ১১টি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক ধাপে ৯টি সন্ত্রাসী ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্যগুলির মধ্যে ছিল নূর খান (রাওয়ালপিন্ডি) এবং মুরিদ (চকওয়াল) বিমানঘাঁটি – যা পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঘাঁটি।

স্যাটেলাইট চিত্রে ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ:
ম্যাক্সার টেকনোলজিস ও মিজারভিশন-এর স্যাটেলাইট চিত্রে এই অভিযানের ব্যাপক সাফল্য স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।

নূর খান বিমানঘাঁটি: ১০ মে-এর চিত্রে দুটি সামরিক ট্রাক ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং রানওয়েতে বিশাল গর্ত দেখা যায়। ২৩ মে-এর চিত্রে একটি ৭,০০০ বর্গফুট কম্পাউন্ড পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দেখা যায়। ভবনগুলির অভ্যন্তরীণ ও কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং আগুনে বৈদ্যুতিক সিস্টেম বিকল হয়ে গেছে। এই ঘাঁটিটি পাকিস্তানের এয়ার মোবিলিটি কমান্ডের সদর দপ্তর, যেখানে C-130, IL-78 এবং কারাকোরাম-8-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান মোতায়েন ছিল।
মুরিদ বিমানঘাঁটি: এটি ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে শাহপার, বারাক, উইং লুং-এর মতো ড্রোন মোতায়েন ছিল। আক্রমণে কমান্ড সেন্টারের ছাদ ধ্বংস এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। সম্ভাব্য ভূগর্ভস্থ স্থাপনার কাছে একটি ৩ মিটার প্রশস্ত গর্তও দেখা গেছে, যা আঘাতের তীব্রতা নির্দেশ করে।

কৌশলগত ও পারমাণবিক প্রভাব:
নূর খান বিমানঘাঁটি পাকিস্তানের কৌশলগত পরিকল্পনা বিভাগের (Strategic Plans Division) খুব কাছে অবস্থিত, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষিত বলে অনুমান করা হয়। এই আক্রমণ পাকিস্তানের সামরিক সরবরাহ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর একটি বড় ধরনের ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযানের পর একটি মার্কিন বিকিরণ পর্যবেক্ষণ বিমান পাকিস্তানে গিয়েছিল পারমাণবিক ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণের জন্য, যা এই হামলার পারমাণবিক সংবেদনশীলতাকেই তুলে ধরে।

অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা:
ভারত এই অভিযানে ব্রহ্মোস, হ্যামার এবং স্ক্যাল্প মিসাইলের মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে। এয়ার মার্শাল এ কে ভারতী জানান, এই হামলা ছিল সুনির্দিষ্ট এবং বেসামরিক এলাকা এড়িয়ে পরিচালিত। ভারতীয় এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থাও প্রশংসনীয়ভাবে পাকিস্তানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছে।

পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া:
যদিও পাকিস্তান দাবি করেছিল যে তারা আক্রমণ প্রতিহত করেছে, কিন্তু স্যাটেলাইট চিত্রে উল্টো সত্য প্রকাশ পেয়েছে। ১০ মে পাকিস্তানের ডিজিএমও ভারতের কাছে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়, যা পরোক্ষভাবে ভারতের অভিযানের সফলতারই প্রমাণ। এই অভিযান ভারতের সামরিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক সুরক্ষায় তার দৃঢ় সংকল্পকে নতুন করে তুলে ধরেছে।