২০২৫-এ করোনা সংক্রমণ কতটা ভয়াবহ হবে? বাবা ভাঙার ভবিষ্যদ্বাণীতে শিউরে উঠবেন!

ভারত সহ এশিয়ার বেশ কিছু দেশে আবারও মাথাচাড়া দিয়েছে কোভিড-১৯ ভাইরাস, যা ২০২০ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। মৃত্যুমিছিল, লকডাউন এবং আর্থিক ক্ষতির সেই দুঃস্বপ্ন থেকে এখনও পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেননি সাধারণ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, আর এর সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে বুলগেরিয়ান ভবিষ্যদ্বাণীকারী বাবা ভাঙ্গার কিছু পুরনো কথা।

গত কয়েক দিনে দিল্লি, চেন্নাই, মুম্বাই এবং আহমেদাবাদের মতো বড় শহরগুলিতে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর আগেও বাবা ভাঙ্গার করা কিছু ভবিষ্যদ্বাণী, বিশেষত করোনা ভাইরাস নিয়ে তাঁর বলা কথা চারদিকে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। তিনি নাকি বলেছিলেন যে, ২০৩০ সালে করোনা আবারও মারাত্মক আকার ধারণ করবে। তবে এখন প্রশ্ন উঠছে, ২০২৫ সালের এই সংক্রমণ কতটা ভয়াবহ হবে?

জাপানি ঔপন্যাসিক রিও তাতসুকি তাঁর ‘বাবা ভাঙ্গা’ নামের বইয়ের জন্য পরিচিত। ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত তাঁর বই ‘দ্য ফিউচার অ্যাজ আই সি ইট’-এ বাবা ভাঙ্গার কিছু ভবিষ্যদ্বাণী অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল, “২০২০ সালে একটি অজানা ভাইরাস আসবে, এপ্রিলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর অদৃশ্য হয়ে যাবে এবং ১০ বছর পরে আবার দেখা দেবে।” বর্তমানে যখন JN.1-এর মতো কোভিড সাব-ভেরিয়েন্ট নিয়ে বিশ্বব্যাপী সতর্কতা বাড়ছে, তখন ২০৩০ সালে করোনার মারাত্মক প্রত্যাবর্তনের বাবা ভাঙ্গার দেওয়া সতর্কতাটি নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

তাতসুকির ভাইরাল হওয়া ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে যে, কোভিড-১৯ আরও ধ্বংসাত্মকভাবে ফিরে আসবে, যার ফলে আরও বেশি মানুষের মৃত্যু হবে এবং বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আবারও বিপর্যস্ত হবে। এই পরিস্থিতিতে মানুষের মনে ভয় দেখা দিয়েছে যে, পাঁচ বছর আগেই কি সেই ভয়াবহ প্রত্যাবর্তন শুরু হয়ে গেল!

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বর্তমানে ভারতে ১,০০০ জনেরও বেশি সক্রিয় কোভিড-১৯ রোগী রয়েছেন। উল্লেখ্য, এই বুলগেরিয়ান অন্ধ নারী তাঁর অসাধারণ ক্ষমতার বলে এর আগে করোনাভাইরাস মহামারী, রাজকুমারী ডায়ানার মৃত্যু, ফ্রেডি মার্কারি’র মৃত্যু এবং আমেরিকায় ৯/১১ হামলা সহ একাধিক বিষয়ে সঠিক ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

যদি বাবা ভাঙ্গার কথা সত্যি হয়, তবে করোনা ভাইরাসটি আরও দ্বিগুণ ক্ষমতা নিয়ে ফিরে আসবে এবং আরও বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নেবে। অতিমারীর সেই ভয়াবহ আক্রমণে সভ্যতা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং রাস্তায় লাশ পড়ে থাকবে বলেও নাকি তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

তবে শুধু দিল্লি বা মুম্বই নয়, পশ্চিমবঙ্গেও করোনার থাবা দেখা দিয়েছে। কলকাতা পুরসভার তরফে অতীন ঘোষ জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গে এখন পর্যন্ত ১৪ জন করোনা আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪ জন কলকাতার বাসিন্দা। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, সংক্রমণ থাকলেও মৃত্যুর সম্ভাবনা আগের তুলনায় অনেক কম।