পাকিস্তান না চিন, ভারতের সবচেয়ে বড় শত্রু কে? মার্কিন গোয়েন্দার রিপোর্টে মিললো স্পষ্ট জবাব

ভারতের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোন প্রতিবেশী দেশ বড় বিপদ ডেকে আনছে, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল মার্কিন ইনটেলিজেন্স রিপোর্টে। মার্কিন ইনটেলিজেন্স এজেন্সি (DIA)-এর ‘ওয়ার্ল্ড থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্ট’-এ ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলিকে নিয়ে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যেখানে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে মদদ এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্তে চিনের সামরিক তৎপরতাকে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন রিপোর্টে ভারতের জন্য পাকিস্তান তেমন বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়নি। যদিও একাধিক কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর আঁতুড়ঘর হিসেবে পাকিস্তান ভারতের জন্য বরাবরই বিপদ ডেকে এনেছে, তবে সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আঘাতের পর সেই সমস্যা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে কোনো জঙ্গি হামলার প্রচেষ্টা হলে প্রত্যাঘাত আরও জোরালো হবে। DIA-এর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, এই মুহূর্তে এই প্রতিবেশী দেশকে নিয়ে ভারতের তেমন চিন্তার প্রয়োজন নেই। একইসঙ্গে, পাকিস্তানকে সামলাতে মোদী সরকারের প্রতিরক্ষা নীতির ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে এই রিপোর্টে।

পাকিস্তানের কাঁধে চিনের হাত

তবে পাকিস্তানকে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়ার মতো বিষয় নয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের কাঁধে বেজিংয়ের হাত রয়েছে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং ভারতীয় সেনার প্রত্যাঘাতের পরিস্থিতিতে পাকিস্তান চীনা অস্ত্রকেই গুরুত্ব দিয়েছিল, যদিও তা কোনো প্রভাব দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে চিনের সাহায্যেই পাকিস্তানও নিজের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও আধুনিক করছে। ব্যালেস্টিক মিসাইল তৈরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই চিনই পাকিস্তানের প্রধান সাহায্যকারী। এমনকি, প্রতি বছর পাক সেনার সঙ্গে চিন সেনার বিশেষ মহড়া ও প্রশিক্ষণ চলে। শুধু অস্ত্রেই নয়, আর্থিক সাহায্যের হাতও ইসলামাবাদের দিকে বাড়িয়ে রেখেছে বেজিং।

চিনা ড্রাগনের লাল চোখ: উদ্বেগের কারণ

মার্কিন ইনটেলিজেন্স এজেন্সি DIA-এর রিপোর্টে বেজিংয়ের পরমাণু অস্ত্র প্রীতিকে উদ্বেগের চোখে দেখা হয়েছে। সূত্রের খবর, চিন ক্রমাগত তার পরমাণু অস্ত্র ভাণ্ডার বাড়িয়ে চলেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ১,০০০টি পরমাণু ওয়ারহেড তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে বেজিং। বর্তমানে চিনের কাছে প্রায় ৬০০টি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। ২০২৫ সালে চিন তাদের বার্ষিক সামরিক বাজেট ৫.২% বৃদ্ধি করে ২৪৭ বিলিয়ন ডলার করার ঘোষণা করেছে। যা ভারতের জন্য মোটেও স্বস্তির নয়।

তবে ভারতও পিছিয়ে নেই। সম্প্রতি ভারত-পাক সংঘাতের আবহেই ভারতের একাধিক আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা সামনে এসেছে। ভারত সম্প্রতি অগ্নি-১ প্রাইম এবং অগ্নি-৫ (MIRV) ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সফল হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় নৌসেনার ভাণ্ডারে যোগ হয়েছে INS আরিঘাট নামের দ্বিতীয় পারমাণবিক সাবমেরিন, যা ভারতের সামরিক ক্ষমতাকে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করেছে।

চিনের সঙ্গে অব্যাহত সীমান্ত বিরোধ

অরুণাচল প্রদেশের নাম পরিবর্তন নিয়ে সম্প্রতি বেজিংকে সতর্ক করেছে ভারত। চিন ও ভারতের মধ্যেও সীমান্ত নিয়ে বিরোধ এখনও অমীমাংসিত। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। যদিও মার্কিন রিপোর্টে উল্লেখ, ২০২৩ সালের মধ্যে লাদাখের ডেপসাং এবং ডেমচক এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে, তবে মূল সমস্যাগুলি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

চিনের মোকাবিলায় নয়াদিল্লি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলির সাথে দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিপাক্ষিক কূটনীতিতেও জোর দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন রিপোর্টে চিনকেই ভারতের ‘প্রধান প্রতিপক্ষ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।