বিলুপ্তির পথে নবাবী আম! কাঁচাপাকাতে মিষ্টি-গোলাপের সুগন্ধ, এই আম খেতে মুখিয়ে থাকে গোটা বাংলা

ইতিহাসের শহর মুর্শিদাবাদ, যা একসময় নবাবী আমলের সুস্বাদু আমের জন্য বিখ্যাত ছিল, আজ সেই ঐতিহ্যবাহী আমের প্রজাতিগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। জেলার সর্বত্র একসময় ছড়িয়ে থাকা আম বাগানগুলিতে এখন হাতেগোনা কিছু গাছেই টিকে আছে ঐতিহাসিক পুরোনো আম। এর মধ্যে অন্যতম হলো সুগন্ধি গোলাপখাস এবং মিষ্টি চম্পা আম, যাদের ফলন এবছর আশঙ্কাজনক হারে কমেছে।

নবাবী আমলের আম চাষিরা জানিয়েছেন, গোলাপখাস আম তার সুগন্ধের জন্য বিখ্যাত। পাকা অবস্থায় যেমন মিষ্টি, তেমনি কাঁচাতেও এর মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়। গোলাপ ফুলের মতো সুগন্ধ থাকায় এই আমের নামকরণ হয়েছে ‘গোলাপখাস’। এটি প্রাচীন বাংলার অন্যতম সেরা আম প্রজাতি। এর গায়ে গোলাপের রঙের লালচে আভা দেখতে পাওয়া যায়। একসময় নবাবী আমলের একটি গাছে দুই কুইন্টাল পর্যন্ত আম ফললেও, এবছর ৫০ কেজি আমও মিলছে না বলে দাবি চাষিদের।

অন্যদিকে, চম্পা আম তার তীব্র সুগন্ধের জন্য পরিচিত। একটি চম্পা আম বাড়িতে রাখলে পুরো বাড়িতে তার সুগন্ধে ভরে যায়। এই আমগুলোও এখন হাতেগোনা কিছু গাছেই পাওয়া যায়। চাষিদের ধারণা, ফলন কম হওয়ায় বাজারে যখন এই আমগুলো আসবে, তখন এর দাম অনেক বেশি হবে। এক একটি চম্পা আম অধিক দামে বিক্রি করা হয়ে থাকে।

নবাবী আমলে মুর্শিদাবাদের আমের সুখ্যাতি দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। মুর্শিদাবাদের নবাবদের ইতিহাস থেকে জানা যায়, তাঁরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আমের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ এনে নিজেদের বাগানে লাগাতেন। শোনা যায়, নবাবদের বাগানে ২০০টিরও বেশি প্রজাতির আমগাছ ছিল।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক আমবাগান কেটে সেখানে বসতি গড়ে উঠেছে। কিছু আমবাগানের অস্তিত্ব থাকলেও, সেখানে হরেক প্রজাতির আমের দেখা পাওয়া যায় না। ফলে নবাবি আমলের অনেক প্রজাতির আম ক্রমেই জেলার মাটি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, এবং বহু প্রজাতিই এখন অস্তিত্ব সংকটে। ঐতিহ্যবাহী এই আম প্রজাতিগুলোকে টিকিয়ে রাখতে এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।