ফলহারিণী অমাবস্যায় তারাপীঠে বিশেষ পুজোপাঠ! ভক্তদের ঢল, মরশুমি ফলে সেজে উঠেছেন মা

আজ, জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথি, যা ফলহারিণী অমাবস্যা নামে পরিচিত। এই বিশেষ দিনে বীরভূমের অন্যতম বিখ্যাত শক্তিপীঠ তারাপীঠে মা তারার আরাধনা চলছে এক ভিন্ন রূপে। সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে উপচে পড়ছে ভক্তদের ভিড়, উৎসবে মেতে উঠেছে গোটা এলাকা।

হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যার এই দিনটিতে মা তারা ‘ফলহারিণী’ রূপে পূজিত হন। এই রূপে দেবী অশুভ ফল অর্থাৎ কর্মফল হরণ করেন এবং ভক্তদের জীবনে মঙ্গল ও শুভ ফল প্রদান করেন। ‘ফলহারিণী’ শব্দটি সংস্কৃত উৎস থেকে এসেছে, যেখানে ‘ফল’ অর্থ কর্মফল এবং ‘হারিণী’ শব্দের অর্থ ‘হরণ করেন যিনি’। অর্থাৎ, ফলহারিণী হলেন সেই দেবী যিনি অশুভ কর্মফল হরণ করে শুভ ফল দান করেন। এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই গৃহস্থ থেকে শুরু করে সাধু-সন্ন্যাসী পর্যন্ত সকল স্তরের ভক্তগণ এই পুণ্যতিথিতে দেবীর উপাসনায় ব্রতী হন।

প্রতি বছরের মতো এবারও ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে ভোর থেকেই তারাপীঠ মন্দির চত্বরে ভক্তদের ঢল নেমেছে। শ্মশান এলাকা ও মন্দির চত্বর এক উৎসবমুখর পরিবেশে ভরে উঠেছে। মন্দির সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সকাল ১১টা ৭ মিনিটে অমাবস্যা তিথি শুরু হয়েছে এবং তা চলবে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যেই ফলসহ বিশেষ পুজো অর্চনার সমস্ত প্রস্তুতি ও আয়োজন সম্পন্ন করা হচ্ছে।

এই দিন মা তারাকে বিভিন্ন মরশুমি ফল দিয়ে সাজানো হয়। রাতে দেবীর মুকুট, গলার মালা এবং অন্যান্য অলঙ্কার সবকিছুই বিভিন্ন রকম ফল দিয়ে তৈরি করা হয়। অমাবস্যা শুরু হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় পুজোপাঠ এবং যজ্ঞের বিশেষ অনুষ্ঠান।

ভক্তরা এদিন সাধারণত পাঁচটি বা নটি ফল নিয়ে দেবীকে পুজো দেন। ফলহারিণী অমাবস্যায় দেবীকে দিনে ও রাতে দু’বার অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। বিশেষ ভোগ হিসেবে খিচুড়ি, সবজি, লাবড়া, মিষ্টি এবং নানা ধরনের ফল রাখা হয়। ভক্তদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই দিনে মা তারাকে ফল দিয়ে পুজো করলে জীবনের সমস্ত অশুভ শক্তি দূর হয় এবং মঙ্গলজনক ফল লাভ হয়। তাই এই পুণ্যতিথিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত মা তারার কৃপা লাভের আশায় তারাপীঠে ছুটে আসেন।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কৌশিকী অমাবস্যার পর ফলহারিণী অমাবস্যায় তারাপীঠে ভক্তদের সর্বাধিক ভিড় হয়। এই বিশাল জনসমাগম সামাল দিতে মন্দির ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছাড়াও মন্দিরের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলও নিরলসভাবে কাজ করছে, যাতে ভক্তরা নির্বিঘ্নে পুজো দিতে পারেন। ফলহারিণী অমাবস্যার এই পুণ্যলগ্নে লক্ষ লক্ষ ভক্তের উপস্থিতিতে তারাপীঠ আজ এক অন্য রূপ নিয়েছে।