“একেবারে পাগল হয়ে গিয়েছেন”-ইউক্রেনে হামলার পরই পুতিনের উপর চটলেন ট্রাম্প

ইউক্রেন এবং রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবন্দিদের এক বড় ধরনের বিনিময়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক শহরে লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এই আকস্মিক হামলার ঘটনায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পুতিনকে ‘পাগল’ বলে অভিহিত করেছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন যে, ইউক্রেন সম্পূর্ণভাবে দখলের যে কোনো প্রচেষ্টা রাশিয়াকে পতনের দিকেই নিয়ে যাবে।
নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, “রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমার সবসময়ই খুব ভালো সম্পর্ক ছিল, কিন্তু তার কিছু একটা হয়েছে। তিনি একেবারে পাগল হয়ে গিয়েছেন! তিনি অকারণে অনেক মানুষকে হত্যা করছেন। ইউক্রেনের শহরগুলিতে কোনো কারণ ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ছোড়া হচ্ছে।” এরপরই তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি সবসময় বলেছি যে তিনি পুরো ইউক্রেন চান, তবে রাশিয়া পতনের দিকে এগিয়ে যাবে।” ট্রাম্প আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, যদি তিনি সেই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে থাকতেন, তাহলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে এই যুদ্ধ কখনই শুরু হত না।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ইস্তানবুলে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল রাশিয়া-ইউক্রেন, যদিও কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও, উভয় পক্ষ যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে রাজি হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, ১ হাজার জন যুদ্ধবন্দি সৈন্য ও অসামরিক নাগরিককে ফেরত পাঠানো শুরু করেছিল উভয় পক্ষ। কিন্তু এই আবহেই গত শনিবার রাত থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ একাধিক শহরে রাশিয়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
সূত্রের খবর, রাশিয়ার তরফে ইউক্রেনের ওপর ৩৬৭টি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যা ২০২২ সাল থেকে চলতে থাকা এই যুদ্ধের আকাশপথে হওয়া সবচেয়ে বড় আক্রমণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় ৩ শিশুসহ মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু মানুষ আহত হয়েছেন। যুদ্ধবন্দি বিনিময়ের মতো একটি ইতিবাচক পদক্ষেপের মধ্যেই এমন ভয়াবহ হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।