‘পহেলগাঁওয়ে মহিলারা বীর ছিলেন না, তাই শিকার হয়েছেন’ BJP-র সাংসদের বিতর্কিত মন্তব্যে শোরগোল

২২শে এপ্রিল, ২০২৫, ভারতের ইতিহাসে এক কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের কাছে বৈসরন উপত্যকায় সেদিন এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন। এর মধ্যে ২৫ জন ছিলেন পর্যটক এবং একজন স্থানীয় যুবক, যিনি পর্যটকদের বাঁচাতে গিয়ে জঙ্গিদের গুলিতে প্রাণ হারান। জঙ্গিরা ধর্মীয় পরিচয় জেনে বেছে বেছে হিন্দু পুরুষদের টার্গেট করেছিল এবং তাদের স্ত্রীর সামনে স্বামীকে, মেয়ের সামনে বাবাকে গুলি করে হত্যা করে। মহিলাদের ছেড়ে দিয়ে তারা বলেছিল, ‘দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে বলো।’
এই নারকীয় হামলায় হিন্দু মহিলাদের সিঁথির সিঁদুর এক লহমায় মুছে গিয়েছিল। ঘটনার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের মাধ্যমে কড়া প্রত্যাঘাত করে। মহিলাদের সিঁদুরের সম্মানার্থেই এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। কিন্তু এবার সেই মহিলাদের সাহসিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির সাংসদ রাম চন্দ্র জাংরা। তাঁর অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্যে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
‘বীরাঙ্গনার কৃতিত্বের অভাব ছিল’ – সাংসদের বিতর্কিত মন্তব্য
হরিয়ানার ভিওয়ানিতে আহিল্যাবাঈ হোলকারের ৩০০তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় বিজেপির সাংসদ রাম চন্দ্র জাংরা বলেন, “পহেলগাঁওতে আমাদের যে বীরাঙ্গনা বোনেরা ছিলেন, যাঁদের সিঁথির সিঁদুর ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ‘বীরাঙ্গনার কৃতিত্ব, উৎসাহ, উদ্দীপনা, উদ্যম কম ছিল।'” তিনি আরও বলেন, “যোদ্ধা মনোভাব, উৎসাহ, উদ্যমের অভাব ছিল। তাই তাঁরা হাত জোর করে গুলির শিকার হয়েছেন। কিন্তু হাত জোর করলে কেউ ছেড়ে দেয় না। আমাদের লোকেরা ওখানে হাত জোর করে মারা গিয়েছেন।”
‘লড়াই করা উচিত ছিল’: অগ্নিপথ স্কিমের প্রসঙ্গ টেনে মন্তব্য
সাংসদ জাংরা এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি অগ্নিপথ স্কিমের প্রশিক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, “পর্যটকরা প্রশিক্ষণে পাশ করেছিলেন? তিনজন জঙ্গি ২৬ জন মানুষকে মারতে পারে না। ওঁদের উচিত ছিল লড়াই করা। যদি করতেন, তাহলে হতাহতের সংখ্যা অল্পই হতো।”
যখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, মহিলারা জঙ্গিদের সঙ্গে লড়বেন এটা তিনি কীভাবে আশা করছেন, জবাবে রাম চন্দ্র জাংরা বলেন, “আহিল্যাবাঈ হোলকার একজন মহিলা ছিলেন। ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈও তাই। তাঁরা কি লড়াই করেননি? আমরা চাই আমাদের বোনেরা সাহসী হোন, সাহসের সঙ্গে বেঁচে থাকুন।”
বিজেপি সাংসদের এমন মন্তব্য ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। চরম সংকটের মুহূর্তে যারা প্রাণ হারালেন, তাদের সাহসিকতা নিয়ে এমন বিতর্কিত মন্তব্য কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সব মহলে।