সেবক-রংপোর পর এবার দক্ষিণ ও পশ্চিম সিকিমেও রেলের স্বপ্ন, যুক্ত করার উদ্যোগ রেলমন্ত্রকের

রেলমন্ত্রক এবার সেবক-রংপো রেলপ্রকল্পের পর দক্ষিণ ও পশ্চিম সিকিমকে রেলপথের মাধ্যমে যুক্ত করার বড় উদ্যোগ নিয়েছে। সিকিমের মেল্লি থেকে ডেন্টাম পর্যন্ত একটি নতুন রেলপথ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর বাস্তবায়নে ‘ফাইনাল লোকেশন সার্ভে’র জন্য প্রাথমিকভাবে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই নতুন রেলপথটি জোরথাং ও লেগশিপের মধ্যে দিয়ে মেল্লি এবং ডেন্টামকে যুক্ত করবে, যার ফলে সিকিমের পশ্চিম ও দক্ষিণ ভাগেও পৌঁছে যাবে ট্রেন। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই সমীক্ষার কাজ করবে, যার জন্য ২ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

পর্যটন ও অর্থনীতির নতুন দিগন্ত
নতুন প্রকল্পটি সেবক-রংপো রেলপ্রকল্পের একটি সম্প্রসারণ পর্যায়। এর ফলে পশ্চিম ও দক্ষিণ সিকিমের পর্যটন প্রসারের পাশাপাশি সেখানকার অর্থনৈতিক অবস্থারও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেলের এমন সিদ্ধান্তে সিকিমবাসীর পাশাপাশি পর্যটক ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সকলেই দারুণ খুশি।

রেলমন্ত্রকের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত এই রেললাইন নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা, এর প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয়, আনুমানিক খরচ ও বাস্তবায়নের সুযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের উপর সমীক্ষা চালানো হবে। সহজভাবে বললে, ‘ফাইনাল লোকেশন সার্ভে’-র উপরেই নির্ভর করছে মেল্লি-ডেন্টাম রেললাইনের ভবিষ্যৎ।

সেবক-রংপো প্রকল্পের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ
সেবক-রংপো প্রকল্পটিকে গ্যাংটক পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নিয়েছে রেল। ইতিমধ্যে সিংথাম-রানিপুলে জমি জরিপের পাশাপাশি রংপো-গ্যাংটক প্রকল্পের ফাইনাল লোকেশন সার্ভের কাজও শেষ করা হয়েছে। কিন্তু প্রায় ৪৫ কিলোমিটার লম্বা সেবক-রংপো রেলপ্রকল্পের কাজ শেষ করার সময়সীমা ক্রমশই পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার সময়সীমা পিছিয়ে চলতি বছর ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও, নির্মাণকারী সংস্থা ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (ইরকন) তরফে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলকে জানানো হয়েছে যে, সেবক-রংপো রেলপ্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

২০২৩ সালের লোনাক হ্রদ বিপর্যয়ে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিছু এলাকা বিচ্ছিন্ন ও বিপর্যস্ত হয়। তাছাড়া প্রতি বর্ষায় ধস এবং দিনের পর দিন জাতীয় সড়ক বন্ধের জেরে প্রকল্পটির কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ করা যায়নি বলে জানিয়েছে ইরকন। সেজন্য প্রথমে সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত ট্রেন না চালিয়ে প্রথম পর্যায়ে সেবক ও তিস্তাবাজারের মধ্যে যাতে ট্রেন চালানো যায়, সেই পরিকল্পনাও নিয়ে পরিকাঠামো তৈরির কাজ শেষ করার ক্ষেত্রেও নজর দিয়েছে ইরকন।

নতুন প্রকল্পের আশার আলো
এরই মধ্যে সিকিমের জোরথাং, লেগশিপ হয়ে মেল্লি থেকে নেপাল সীমান্ত চিওয়াভাঞ্জিয়াং লাগোয়া ডেন্টাম পর্যন্ত নতুন রেলরুটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলমন্ত্রক। সমীক্ষার এই কাজ শেষ হলেই ডিপিআর (ডিটেইলড প্রোজেক্ট রিপোর্ট) তৈরির কাজ শুরু হবে। সেবক ও রংপোর মধ্যে ট্রেনের চাকা গড়ানোর আগেই নতুন প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে আশা করছে রেলমন্ত্রক।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জলকিশোর শর্মা বলছেন, “ফাইনাল লোকেশন সার্ভে শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটির কাজ শুরু হতে বেশি সময় লাগবে না। নতুন প্রকল্পটির মধ্যে দিয়ে ওই অঞ্চলের পরিবহণ ব্যবস্থায় গতি আসবে এবং উন্নয়ন ঘটবে পর্যটনের।”

হিমালয়ান হসপিটালিটি ট্র্যাভেল অ্যান্ড ট্যুর ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সম্পাদক সম্রাট সান্যাল বলেন, “এই রেলপথটি হলে সিকিমের পর্যটনে অনেক প্রসার আসবে। কিন্তু যাতে পাহাড়ের কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিক মাথায় রেখে করা উচিত।” অ্যাসোসিয়েশন ফর কনজারভেশন অ্যান্ড ট্যুরিজমের সম্পাদক রাজ বসু বলেন, “এতে সিকিমের পর্যটন আরও উন্নত হবে। পর্যটকরা সরাসরি ট্রেনে করে সিকিমে পৌঁছাতে পারবেন। খুব ভালো খবর।”