“ইন্ডিগো বিমানের নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করা হয়”-বিতর্কের মাঝেই জানিয়ে দিলো IAF

বুধবার দিল্লি থেকে শ্রীনগরগামী ইন্ডিগোর ফ্লাইট 6E 2142 একটি মারাত্মক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। তীব্র শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কবলে পড়ে বিমানটি, যার ফলে ২২৭ জন যাত্রীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) দ্রুত সহায়তা করে বিমানটিকে নিরাপদে শ্রীনগরে অবতরণে সাহায্য করে।

ঘটনাটি ঘটে যখন ইন্ডিগো বিমানটি অমৃতসরের কাছাকাছি পৌঁছায়। খারাপ আবহাওয়া আঁচ করতে পেরে পাইলট পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশের অনুমতি চান লাহোর এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর কাছে। উদ্দেশ্য ছিল প্রতিকূল আবহাওয়া এড়িয়ে যাওয়া। কিন্তু পাকিস্তানের অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা NOTAM A0220/25 অনুসারে, ভারতীয় বেসামরিক ও সামরিক বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা ২৩ মে মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। এই কারণে লাহোর এটিসি অনুমতি দেয়নি।

পাকিস্তানের অনুমতি না মেলায় পাইলটকে খারাপ আবহাওয়ার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিমানটি তীব্রভাবে দুলতে শুরু করে এবং উচ্চতার ভয়াবহ তারতম্য ঘটে। কখনও বিমানটি উপরে উঠছিল, পরমুহূর্তেই তা নেমে যাচ্ছিল, এমনকি এক পর্যায়ে সাড়ে আট হাজার ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল। বিমানের গতিতেও অস্বাভাবিক পরিবর্তন আসছিল। এই পরিস্থিতিতে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং বিমানের অটো-পাইলট প্রযুক্তি বন্ধ করে দেন। সম্পূর্ণ ম্যানুয়ালি বিমান চালিয়ে তিনি শ্রীনগরে নিরাপদে অবতরণ করান।

এই সঙ্কটময় মুহূর্তে নর্দান এরিয়া কন্ট্রোল দ্রুত ইন্ডিগো পাইলটকে সতর্ক করে এবং দিল্লি এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করে। লাহোর কন্ট্রোলের ফ্রিকোয়েন্সিও পাইলটকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে জরুরি অনুমতি পেলে সেটি ব্যবহার করা যায়। পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ার পর বিমানটিকে বিকল্প পথ দিয়ে শ্রীনগরের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। এখান থেকে ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) নিয়ন্ত্রণ নেয়। IAF পাইলটকে রিয়েল-টাইম কন্ট্রোল ভেক্টর এবং গ্রাউন্ড স্পিড সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে নিরাপদে অবতরণ নিশ্চিত করে।

বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেও এর নাকের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত, বিমানের কোনো যাত্রী বা ক্রু গুরুতর আহত হননি।

এই ঘটনার পর ভারতের অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA) জানিয়েছে যে ইন্ডিগো ফ্লাইট 6E2142 খারাপ আবহাওয়ার কারণে শিলাবৃষ্টির সম্মুখীন হয়েছিল, যার পরে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ডিজিসিএ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।