“বলতে হবে পাকিস্তানকেই”- নাক গলাতে পারেননি ট্রাম্প, যুদ্ধ বিরতির অজানা কাহিনি জয়শঙ্করের মুখে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাগাতার এই দাবি যে, তিনিই ভারত-পাক সংঘর্ষ থামিয়েছেন, তা সরাসরি খারিজ করে দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই সংঘর্ষবিরতিতে পৌঁছেছিল ভারত ও পাকিস্তান। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, পহেলগাম হামলার মতো ভবিষ্যতে যদি কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়, তাহলে ভারত আবারও পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণ করবে। এই মন্তব্যের জেরে মোদী সরকারকে দেশে-বিদেশে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

তিন দেশ সফরে জয়শঙ্কর, দিলেন কড়া বার্তা
নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক এবং জার্মানি — তিন দেশ সফরে গিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বর্তমানে তিনি জার্মানির হেগ শহরে রয়েছেন। সেখানেই নেদারল্যান্ডসের টিভি চ্যানেল এনওএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

বিদেশমন্ত্রী কড়া ভাষায় বলেছেন, “যদি এমন কোনও হামলা (পহেলগাম হামলার মতো) হয়, তবে তার জবাব দেওয়া হবে। আমরা বলেছি অভিযান এখনও চলছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “যদি ২২ এপ্রিল আমরা যে ধরনের ঘটনা দেখেছি, সেই ধরনের কোনও ঘটনা ফের ঘটে, তবে তার জবাব দেওয়া হবে। আমরা সন্ত্রাসবাদীদের উপর হামলা করব।”

জয়শঙ্করের হুঁশিয়ারি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “সন্ত্রাসবাদীরা পাকিস্তানে থাকুক বা যেখানেই থাকুক, আমরা সেখানে গিয়ে তাদের মারব।” তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, “অভিযান অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে আমরা এই বার্তাই দিয়েছি। অভিযান অব্যাহত থাকার অর্থ একে অপরের উপর গুলি চালিয়ে যাওয়া নয়।”

ট্রাম্পের ‘নাক গলানো’র দাবি খারিজ
ট্রাম্পের দাবিকে নাকচ করে দিয়ে বিদেশমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, আমেরিকা সংঘর্ষবিরতির জন্য উদ্যোগ নিয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, দুটি দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এই ক্ষেত্রে আমেরিকাও তা করেছিল। কিন্তু গোলাগুলি বর্ষণ এবং সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় নয়।

তিনি আরও জানিয়েছেন, আমেরিকা-সহ বেশ কয়েকটি দেশ ভারতকে জানিয়েছিল যে পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতি চাইছে। বিদেশমন্ত্রী বলেন, “আমরা সকলকে বলেছিলাম, পাকিস্তানিরা যদি যুদ্ধ বন্ধ করতে চায়, তাহলে তাদের সরাসরি আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমরা তাদের কাছ থেকে এটা শুনতে চাই। তাদের জেনারেল আমাদের জেনারেলকে ফোন করে এটা বলুক। সেটাই ঘটেছিল।”

জয়শঙ্করের এই মন্তব্য ভারত-পাক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই কড়া বার্তা কি পাকিস্তানের উপর সন্ত্রাসবাদ দমনে আরও চাপ সৃষ্টি করবে?