কলকাতা ও সুন্দরবনের আকাশে রহস্যময় ‘ড্রোন’, কারা ওড়াল? জানতে তৎপর লালবাজার

‘অপারেশন সিঁদুরের’ পর ভারতকে নিশানা করে ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা চালিয়েছিল পাকিস্তান। অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির-সহ সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় ধেয়ে আসে পাক ড্রোন। তবে বায়ুসেনার দুর্দমনীয় প্রতিরোধ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে গুঁড়িয়ে যায় একের পর এক পাক ক্ষেপণাস্ত্র। আপাতত দু’দেশের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি থাকলেও, পাকিস্তান চোরাগোপ্তা হামলা চালাতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় সেনা। এই আবহেই কলকাতা ও সুন্দরবনের আকাশে ড্রোন জাতীয় বস্তুর আনাগোনাকে হালকাভাবে দেখছে না পুলিশ ও সেনা। আকাশের সেই ঝলমলে বস্তুগুলি আদৌ কী ড্রোন, যদি ড্রোন হয় তবে তা কী ধরনের ড্রোন, তার অপারেটর কে—এসব জানতে তৎপর লালবাজার।
রহস্যজনক ড্রোনের তদন্তে বিশেষ কৌশল লালবাজারের
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আপাতত প্রশমিত হলেও কূটনৈতিক লড়াই অব্যাহত। এরই মধ্যে কলকাতা ও সুন্দরবনের আকাশে ড্রোন জাতীয় বস্তু চোখে পড়ায় তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও তদন্তে নেমে যে বিষয়গুলি কলকাতা পুলিশকে ভাবাচ্ছে তা হলো, এই বস্তুগুলি যদি ড্রোন হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে সেগুলি কী জাতীয় ড্রোন ছিল, তা আগে খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।
সেই কারণেই কলকাতা ও সাগর এলাকায় আকাশে যে সব ড্রোন জাতীয় বস্তুগুলি উড়তে দেখা গিয়েছে, সেই বস্তুগুলির ধরন সম্পর্কে জানতে চাইছে লালবাজার। এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্তে এখনও কিছু পাওয়া যায়নি। তবে বস্তুগুলি যদি ড্রোন হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলি কী প্রকারের ড্রোন, তা আগে যাচাই করে দেখা হবে। কারণ ড্রোনের একাধিক প্রকারভেদ হয়ে থাকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মূলত যে সকল ড্রোন ব্যবহার করা হয় সেগুলি হলো, উইং ড্রোন, রোটারি উইং ড্রোন, ট্রাইকপ্টার, কোয়াডকপ্টার, হেক্সাকপ্টার ও অক্টোকপ্টার। রাতে শহরে ও সাগরের আকাশে উড়ন্ত ড্রোন জাতীয় বস্তুগুলি এগুলির মধ্যে কোনও প্রকারের কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অপারেটর ও লাইসেন্সধারী কারা?
বিশেষ প্রকারের ড্রোন ওড়াতে গেলে চাই বিশেষ প্রশিক্ষণ। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী অপারেটরের কাছে থাকতে হবে বিশেষ লাইসেন্স। তাই কলকাতা শহর তথা রাজ্যে কাদের কাছে এই লাইসেন্স আছে, তা খুঁজে বের করবেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। আর এখান থেকেই মিলতে পারে নতুন কোনো ক্লু। সোমবার রাতে শহর কলকাতার আকাশে এবং বুধবার রাতে সাগরের আকাশে যে ড্রোন জাতীয় বস্তুগুলি দেখা গিয়েছিল, তার অপারেটর কারা ছিল তা জানতে পারবেন তদন্তকারীরা।
তবে এই দুই জায়গায় রাতের আকাশে উড়ন্ত যে বস্তুগুলি দেখা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত তার সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা পায়নি কলকাতা পুলিশ। যদিও এই ঘটনার পর শহরের প্রত্যেক থানাকে বলা হয়েছে, নিজ নিজ এলাকায় নজর রাখতে। কোথাও কোনো প্রকারের এই ধরনের বিষয় নজরে এলে তা লালবাজারে জানাতে বলা হয়েছে।
এই বিষয়ে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেন, “তদন্ত চলছে। কিছু জানা গেলে অবশ্যই জানানো হবে।” অন্যদিকে, আজ ইস্টার্ন কমান্ডের সিপিআরও উইং কমান্ডার হিমাংশু তিওয়ারি ইটিভি ভারতকে বলেন, “পুলিশের থেকে বিষয়টি জানতে পেরেছিলাম। ভারতীয় সেনা এই বিষয়ে তদন্ত করছে। কিছু জানা গেলে অবশ্যই জানানো হবে।”
ঘটনার সূত্রপাত
উল্লেখ্য, সোমবার রাতে কলকাতায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড, বাবুঘাট, ইডেন গার্ডেন্স থেকে শুরু করে শেক্সপিয়ার সরণি থানার আওতাধীন দ্য ৪২ বিল্ডিং এবং পার্ক সার্কাসের দিকে একাধিক ড্রোন জাতীয় বস্তুকে আকাশে উড়তে দেখেন সেখানে থাকা কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। তাঁরাই প্রথমে খবর দেন লালবাজারে। কলকাতা পুলিশের তরফ থেকে রাতের আকাশে ড্রোন জাতীয় বস্তু ওড়ার বিষয়টি মেনে নেওয়া হয়। লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছিল, এই বিষয়ে তারা ভারতীয় সেনা এবং প্রত্যেকটি এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
এর কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই বুধবার রাতে সুন্দরবন জেলা পুলিশের আওতাধীন একাধিক উপকূলবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে বেশকিছু ড্রোনের মতো বস্তু উড়তে দেখেন বাসিন্দারা। তাঁরাই খবর দেন স্থানীয় থানায়। যদিও এই বিষয়ে সুন্দরবন পুলিশের তরফে বলা হয়, “গতকাল আবহাওয়া খারাপ থাকার জন্য এয়ার ট্র্যাফিক জ্যাম হয়ে যায়। সে জন্যই হয়তো সুন্দরবনের উপকূলের আকাশে বেশকিছু বিমানকে দেখতে পেয়ে এলাকার বাসিন্দারা ভেবেছিলেন যে সেগুলি ড্রোন। তবে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। আমরা সবদিক খতিয়ে দেখছি এবং সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছি।”