ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের দাবি, মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে কংগ্রেস

ভারত-পাকিস্তান সংঘাত তিনিই রুখে দিয়েছেন এবং ব্যবসার সূত্র ধরেই দুই দেশ সমঝোতায় রাজি হয়েছে – এমন দাবি ফের করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, ট্রাম্পের এই দাবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়ে সরব হয়েছে কংগ্রেস।
মোদি এ নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, কূটনৈতিক সফরে নেদারল্যান্ডের দ্য হেগ শহরে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ হলে বিশ্ব তা থামানোর আহ্বান জানাবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, ভারত আর পাকিস্তানের সংঘাত থেমেছে দু’পক্ষের সামরিক নেতৃত্বের আলোচনার উপর ভিত্তি করেই।
কংগ্রেসের প্রশ্ন ও ট্রাম্পের দাবি
কংগ্রেসের মিডিয়া সেলের প্রধান পবন খেরা বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে জানান, এই নিয়ে আটবার ট্রাম্প ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে চলতে থাকা সংঘর্ষ বন্ধ করার দাবি করেছেন। তিনি বারবার বলছেন, ব্যবসায়িক কারণেই দুটি দেশ সমঝোতায় এসে পৌঁছাতে পেরেছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী এখনও পর্যন্ত একবারও সেই দাবি খারিজ করেননি। খেরা প্রশ্ন তোলেন, “এই নীরবতার মানে কী, সেটা আমরা জানতে চাই।”
এদিন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতে আসেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তাঁকে ট্রাম্প বলেন, “আমরা মাত্র কয়েকদিন আগে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা করিয়েছি। সব সমস্যার সমাধান করেছি। আমার ধারণা, ব্যবসার কারণেই সমস্যার সমাধান হয়েছে।” অন্য একটি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছিল। এমতাবস্থায় মার্কিন প্রশাসন ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে কথা বলে। কারণ, কোনো একটি দিক থেকে গুলি বর্ষণ বন্ধ হওয়া দরকার ছিল। শেষমেশ সেটাই হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ভারত এবং পাকিস্তানের প্রশংসাও করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইতিবাচক ভূমিকা নিয়েছেন। একইসঙ্গে ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তাঁর বন্ধু বলেও অভিহিত করেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট।
‘অপারেশন সিঁদুর’ ও রাহুলের প্রশ্ন
‘অপারেশন সিঁদুরের’ আবহে এর আগেও নীরবতার প্রসঙ্গ এসেছে। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এই সামরিক অভিযানে ভারতের কোনো যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে কিনা তা জানতে চান রাহুল। কিন্তু রাহুলের দাবি, তিনি কোনো জবাব পাননি। শুধু তাই নয়, রাজীব-তনয়ের আরও দাবি, অপারেশন সিঁদুরের কথা পাকিস্তান আগে থেকে জানত। তাই তারা প্রস্তুত হওয়ার সময় পেয়েছিল, আর সেই কারণেই পাকিস্তানের হামলায় ভারতের যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। নিজের দাবির সপক্ষে বিদেশমন্ত্রীর একটি ভিডিওর সাহায্য নেন রাহুল। যদিও রাহুলের দাবি খারিজ করে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, জয়শঙ্করের বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই ধরনের মন্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান কতটা প্রভাবিত হতে পারে বলে আপনার মনে হয়?