বিকাশ ভবনের সামনে চাকরিহারাদের ধর্ণার ১৬ দিন! এখনও রয়েছে জারি

বিকাশ ভবনের সামনে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ধর্না আজ ১৬তম দিনে পদার্পণ করেছে। আন্দোলনকারীরা এখনও রাস্তায় বসে তাঁদের দাবি আদায়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই আন্দোলনে এক নতুন মোড় এসেছে।

আজ কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, চাকরিহারা শিক্ষক-নেতা ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল ও সুদীপ কোনার বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরা দেবেন। রাজ্যের আশ্বাসের ভিত্তিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন যে, এই দুই জনের বিরুদ্ধে আপাতত কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। গতকালও বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরা দেন ৪ জন চাকরিহারা শিক্ষক, যা এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

আন্দোলনকারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে যে, আন্দোলনকারী শিক্ষকরা সেন্ট্রাল পার্কে তাঁদের অবস্থান চালিয়ে যেতে পারবেন। হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে সেন্ট্রাল পার্কে আন্দোলনকারীদের জন্য বায়ো টয়লেট এবং পানীয় জলের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে, একসঙ্গে ৫০ থেকে ১০০ জন আন্দোলনকারী সেন্ট্রাল পার্কে থাকতে পারবেন বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আদালত এও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আন্দোলনের ফলে কোনো সরকারি কর্মচারী যেন আহত না হন।

রাজ্যের বিভিন্ন নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের কারণে চাকরি হারানোর অভিযোগ তুলে দীর্ঘ ১৬ দিন ধরে বিকাশ ভবনের সামনে ধর্না দিচ্ছেন এই শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরা। তাঁদের মূল দাবি হলো, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং চাকরিহারাদের দ্রুত পুনর্বহাল করা। এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাপানউতোর চলছে। বিরোধীরা এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করছে।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, যত দিন না তাঁদের দাবি পূরণ হচ্ছে, ততদিন তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। হাইকোর্টের এই নির্দেশকে তাঁরা আংশিক জয় হিসেবে দেখছেন, কারণ এটি তাদের আন্দোলনের বৈধতা দিয়েছে এবং পুলিশি হয়রানি থেকে কিছুটা মুক্তি এনেছে। তবে, চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।

এখন দেখার বিষয়, হাইকোর্টের এই নির্দেশের পর রাজ্য সরকার এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন করে কোনো আলোচনার পথ খোলে কিনা এবং এই দীর্ঘদিনের সমস্যার কবে স্থায়ী সমাধান হয়।