একদিনে দু’বার বদল, ফের বাড়লো সোনার দাম, বিনিয়োগকারীদের জন্য সুসংবাদ

মঙ্গলবার বাংলার বাজারে সোনার দামে ফের একবার অস্থিরতা দেখা গেল। একই দিনে দু’বার বদল হয়ে বিকেলে অনেকটাই বাড়ল সোনার দাম। ফলে আজ যারা সোনা কিনতে যাচ্ছেন, তাদের পকেট থেকে বেশি খরচ করতে হবে। ১ ভরি সোনার দাম (Gold Rate Today) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক লাফে বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটলেও গয়না ক্রেতাদের জন্য এটি কিছুটা চিন্তার কারণ। রূপোর দামও একইসঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দামের ওঠানামা এবং বিনিয়োগের সুযোগ
ভারতে যেকোনো উৎসব বা শুভ কাজে সোনা কেনা বা উপহার দেওয়ার রীতি বহু প্রাচীন। অনেকেই সোনাকে বিনিয়োগের একটি নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে দেখেন। সেই ক্ষেত্রে সোনার দাম বাড়লে বিনিয়োগে বেশি মুনাফা পাওয়া যায়। তবে, সোনার গয়না কেনার ক্ষেত্রে খরচ অনেকটাই বেড়ে যায়, কারণ গয়নার মজুরি ও জিএসটি যোগ হয়।
সবচেয়ে বিশুদ্ধ সোনা হলো ২৪ ক্যারেটের (৯৯.৯% খাঁটি), যদিও এই সোনায় সাধারণত গয়না গড়া হয় না কারণ এটি নরম হয়। যারা সঞ্চয়ের জন্য সোনার বার বা কয়েন কেনেন, তারাই মূলত ২৪ ক্যারেট (পাকা সোনা) কেনেন।
আজকের সোনার ও রুপোর দাম (২০ মে, ২০২৫, সন্ধ্যা):
সোনা ওজন দাম (টাকায়)
২৪ ক্যারেট (Fine Gold 995) ১ গ্রাম ৯৩৮২
২২ ক্যারেট (কিনতে গেলে) ১ গ্রাম ৮৯১৫
২২ ক্যারেট (বেচতে গেলে) ১ গ্রাম ৮৫৩৭
১৮ ক্যারেট ১ গ্রাম ৭৩২০
রুপো (৯৯৯) ১ কেজি ৯৬,৩৬৬
আজ সকালের দাম:
সোনা ওজন দাম (টাকায়)
২৪ ক্যারেট (Fine Gold 995) ১ গ্রাম ৯২৮৬
২২ ক্যারেট (কিনতে গেলে) ১ গ্রাম ৮৮২৫
২২ ক্যারেট (বেচতে গেলে) ১ গ্রাম ৮৪৫০
১৮ ক্যারেট ১ গ্রাম ৭২৪৫
রুপো (৯৯৯) ১ কেজি ৯৫,১২১
সোনা কেনা বা বিক্রির সময় মনে রাখার বিষয়:
সোনার বিশুদ্ধতা: সোনার বিশুদ্ধতা ক্যারেটে প্রকাশ করা হয়। ২৪ ক্যারেট সোনা ৯৯.৯% খাঁটি এবং ২২ ক্যারেট সোনা ৯১.৬৭% খাঁটি। ১৪ এবং ১৮ ক্যারেটে যথাক্রমে মাত্র ৫৮.৩৩% এবং ৭৫% খাঁটি সোনা থাকে। গয়নার জন্য ২২ ক্যারেট সোনা বেশি ব্যবহৃত হয়, কারণ এতে অন্যান্য ধাতু মেশানো থাকে যা একে মজবুত করে।
গয়নায় হলমার্ক: হলমার্ক হলো একটি চিহ্ন যা জুয়েলারের শনাক্তকরণ চিহ্ন, হলমার্কিংয়ের বছর, ক্যারেট এবং ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (BIS) এর স্ট্যাম্প উল্লেখ করে। BIS স্ট্যাম্প একটি সার্টিফিকেট যা নিশ্চিত করে যে গয়নাটি ব্যুরো কর্তৃক নির্ধারিত মান অনুসারে তৈরি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, জুয়েলারদের ব্যক্তিগত হলমার্কও থাকে, যাতে ধাতুর বিশুদ্ধতা এবং তৈরির বছর লেখা থাকে। হলমার্কযুক্ত সোনা বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা দেয় এবং এর পুনরায় বিক্রির মূল্যও ভালো থাকে।
স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটি, যা ১৯৯৩ সালে গঠিত হয়েছিল, গোটা রাজ্যেই কার্যকর। স্বর্ণশিল্পী এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের নিয়ে এই সংগঠন কাজ করে। বর্তমানে এর কার্যনির্বাহী সভাপতি সমর কুমার দে। সোনার দামের এই ঘন ঘন পরিবর্তন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়কেই সচেতন থাকতে উৎসাহিত করছে।