হংকং, ইউএই থেকে কেনিয়া, লজ্জার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট, ছোট দলগুলির কাছে বারবার হার

আরব মুলুকে বড় লজ্জার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সোমবার রাতে শারজায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) টি-২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে ২ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ২৫ বছর ধরে টেস্ট খেলার মর্যাদা উপভোগ করছে এবং বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির সাথে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। নিজেদের দেশে বিপিএল-সহ বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন পদ্মাপাড়ের দেশের ক্রিকেটাররা। তা সত্ত্বেও, ক্রিকেট বিশ্বের তথাকথিত ছোট দলগুলির কাছে বারবার হেরে যাচ্ছে বাংলাদেশ, যা দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে গভীর হতাশার জন্ম দিয়েছে।

পেশাদার ক্রিকেটার, উন্নত পরিকাঠামো এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স প্রশ্ন তুলছে তাদের মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলের উপর। আসুন দেখে নেওয়া যাক বাইশ গজের খেলায় কোন কোন ছোট দল বাংলাদেশের মাথা হেঁট করেছে:

১) হংকং (২০১৪ টি-২০ বিশ্বকাপ)
২০১৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ঘরের মাঠে চট্টগ্রামের মাটিতে হংকংয়ের কাছে ২ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ মাত্র ১০৮ রানে অল আউট হয়ে যায়, যা হংকং ৮ উইকেট হারিয়ে ২ বল বাকি থাকতে তুলে নেয়।

২) আমেরিকা (২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপ)
২০২৪ টি-২০ বিশ্বকাপে প্রাইরি ভিউয়ে আয়োজক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ৬ রানে পরাজিত করে। প্রথমে ব্যাট করে আমেরিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৪ রান করে। জবাবে নাজমুল হোসেন শান্তোর দল মাত্র ১৩৮ রানে অল আউট হয়ে যায়।

৩) সংযুক্ত আরব আমিরাত (২০২৫ টি-২০ সিরিজ)
সোমবার রাতে শারজায় টি-২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশকে ২ উইকেটে হারায়। বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ২০৫ রান করেছিল। জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত এক বল বাকি থাকতে ৮ উইকেট হারিয়ে সেই বিশাল রান তাড়া করে জয় ছিনিয়ে নেয়।

৪) নেদারল্যান্ডস (ওয়ানডে ও টি-২০)
ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনবারের সাক্ষাতে নেদারল্যান্ডস দুবার বাংলাদেশকে হারিয়েছে। ২০২৩ বিশ্বকাপে ইডেন গার্ডেন্সে ডাচরা বাংলাদেশকে ৮৭ রানে পরাজিত করে। নেদারল্যান্ডস ২২৯ রান করার পর বাংলাদেশ মাত্র ১৪২ রানে অল আউট হয়ে যায়। ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বাইরে কখনও ডাচদের হারাতে পারেনি সাকিবের দেশ। টি-২০ ক্রিকেটেও ২০১২ সালে হেগে ডাচরা মুশফিকুর রহিমের দলকে ১ উইকেটে হারিয়েছিল।

৫) কেনিয়া (২০০৩ বিশ্বকাপ)
ওয়ানডে ক্রিকেটে কেনিয়ার কাছে বাংলাদেশ ৬ বার হেরেছে। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর ২০০৩ বিশ্বকাপে কেনিয়ার কাছে হেরেছিল পদ্মাপাড়ের দেশ।

৬) স্কটল্যান্ড (টি-২০ আন্তর্জাতিক)
আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ড দুবার মুখোমুখি হয়েছে, এবং উভয় ম্যাচেই স্কটিশরা বাংলাদেশকে হারিয়েছে। ২০১২ সালে হেগে ৩৪ রানে এবং ২০২২ সালে ওমানে ৬ রানে বাংলাদেশকে হারায় স্কটল্যান্ড।

৭) আয়ারল্যান্ড (ওয়ানডে ও টি-২০)
ওয়ানডে ক্রিকেটে আয়ারল্যান্ড বাংলাদেশকে দু’বার হারিয়েছে – ২০০৮ সালে ব্রিজটাউনে ৮ উইকেটে এবং ২০১০ সালে বেলফাস্টে ৭ উইকেটে। যদিও গত ১৪ বছর ধরে আইরিশরা ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি। তবে টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও ইউরোপের এই টেস্ট খেলুড়ে দেশটি বাংলাদেশকে দুবার হারিয়েছে; ২০০৯ সালে নটিংহ্যামে ৬ উইকেটে এবং ২০২৫ সালের মার্চে চট্টগ্রামে ৭ উইকেটে।

৮) জিম্বাবোয়ে (টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-২০)
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জিম্বাবোয়ের কাছে বারবার হেরেছে বাংলাদেশ। ২০টি টেস্টের মধ্যে জিম্বাবোয়ে ৮টি জয় লাভ করেছে, যদিও বাংলাদেশ ৯টি টেস্টে জিম্বাবোয়েকে হারিয়েছে। ওয়ানডেতে ৮১ বারের সাক্ষাতে বাংলাদেশ ৫১টি ম্যাচ জিতলেও, জিম্বাবোয়ে ৩০ বার জয়ী হয়েছে। টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জিম্বাবোয়ে এখনও পর্যন্ত ৮টি ম্যাচে বাংলাদেশকে পরাজিত করেছে।

এই ধারাবাহিক পরাজয়গুলি বাংলাদেশ ক্রিকেটের গভীর সমস্যাগুলি তুলে ধরছে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এবং পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা থাকা সত্ত্বেও, দল কেন ছোট দলগুলির বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারছে না, তা নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।