পহেলগাঁও হামলার মক্ষম জবাব! অপারেশন সিঁদুর-র প্রস্তুতি নিয়ে মুখ খুললেন এই জাওয়ান

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার কঠোর জবাব দিতে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামক এক সুচিন্তিত ও শক্তিশালী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ভারতীয় সৈন্যরা দাবি করেছেন, এই অভিযানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভারতের ওপর যেকোনো আক্রমণ হলে তাদের মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হবে এবং পাকিস্তান সারা জীবন ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে মনে রাখবে।

৭ মে, ২০২৫ তারিখে পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর পরই ভারত এই অভিযান শুরু করে, যেখানে ২৬ জন নিরীহ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল একটি সুপরিকল্পিত, সুনির্দিষ্ট এবং পেশাদার অভিযান। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) পেরিয়ে এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে থাকা সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা।

বায়ুসেনার ভূমিকা: ভারতীয় বিমান বাহিনী (IAF) পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী অবকাঠামোগুলোতে নির্ভুল হামলা চালায়। তারা নুর খান এয়ার বেস এবং রহিমইয়ার খান এয়ার বেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে উচ্চ-প্রভাবশালী বিমান অভিযান পরিচালনা করে, যার ক্ষতির দৃশ্যমান প্রমাণ সরকারি ব্রিফিংয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে।

নৌবাহিনীর ভূমিকা: ভারতীয় নৌবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় সামুদ্রিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কড ফোর্স হিসেবে নৌবাহিনী তার ক্যারিয়ার ব্যাটল গ্রুপ (CBG) মোতায়েন করে, যা MiG-29K ফাইটার জেট এবং এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং হেলিকপ্টার দিয়ে সজ্জিত ছিল। এটি সামুদ্রিক এলাকায় ক্রমাগত নজরদারি এবং রিয়েল-টাইম হুমকি শনাক্তকরণ নিশ্চিত করে।

সেনাবাহিনী ও সীমান্ত সুরক্ষা: ভারতীয় সেনাবাহিনী ও সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (BSF) আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশের বড় একটি চেষ্টা নস্যাৎ করে। বিএসএফ সৈন্যরা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়, যার ফলে তীব্র গোলাগুলি হয়। এই সংঘর্ষে বিএসএফ সফলভাবে অন্তত দুজন অনুপ্রবেশকারীকে নির্মূল করে এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।

লক্ষ্যবস্তু: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) নয়টি সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্ট সাইটকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এর মধ্যে বহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মুহাম্মদ (JeM) এবং মুরিদকেতে লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-এর সদর দফতরও ছিল। ভারতীয় সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, এই হামলায় ১০০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।

ভারতীয় সামরিক বাহিনী এক ভিডিও প্রকাশ করে বলেছে, “এইবার আমরা এমন শিক্ষা দেব যা তাদের প্রজন্ম মনে রাখবে। এটি প্রতিশোধের কাজ ছিল না। এটি ছিল ন্যায়বিচার।” তারা আরও বলেছে, “অপারেশন সিঁদুর কেবল একটি সামরিক পদক্ষেপ ছিল না; এটি পাকিস্তানের জন্য একটি পাঠ ছিল, যা তারা কয়েক দশক ধরে শেখেনি।”

‘অপারেশন সিঁদুর’ কেবল একটি কৌশলগত সাফল্যই ছিল না, এটি একটি কৌশলগত বিবৃতিও বটে। এটি স্থল, আকাশ এবং সমুদ্র জুড়ে উচ্চ-নির্ভুল, সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপের জন্য ভারতের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এই অভিযান প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ এবং ভারত সরকারের অটল নীতি ও বাজেট সমর্থনের দ্বারা সম্ভব হয়েছে। বার্তাটি স্পষ্ট: যখন যুক্তি এবং কূটনীতির আবেদন ক্রমাগত আগ্রাসন দ্বারা পূরণ হয়, তখন একটি চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয়।