বিজনেস মিট থেকে শুরু করে প্রশাসনিক বৈঠক, ৩ দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে কী কী চমক মমতার?

উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক সংগঠনকে চাঙ্গা করতে তিন দিনের সফরে উত্তরবঙ্গ যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, ১৯ মে সোমবার, তিনি বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। এই সফরে তাঁর একগুচ্ছ কর্মসূচি রয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক, সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান এবং প্রশাসনিক বৈঠক।

মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি:

  • আজ, ১৯ মে (সোমবার): উত্তরবঙ্গে পৌঁছে সড়কপথে মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়ির দীনবন্ধ মঞ্চে যাবেন। সেখানেই শিল্পপতিদের নিয়ে একটি ‘বিজনেস মিট’ বা ‘সিনার্জি’ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এবারের বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে উত্তরবঙ্গের পর্যটন, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র শিল্পের সম্ভাবনার দিকটি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছিল। তারই সূত্র ধরে এই সম্মেলনে শিল্পোদ্যোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের পরামর্শ ও সমস্যাগুলি শুনবেন মমতা। রাতে তিনি উত্তরকন্যায় থাকবেন।
  • ২০ মে (মঙ্গলবার): মুখ্যমন্ত্রী ফুলবাড়ির ভিডিওকন গ্রাউন্ডে একটি সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেবেন।
  • ২১ মে: তিনি উত্তরকন্যায় একটি প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নেবেন। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেন এবং এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
  • ২২ মে: প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা ফিরবেন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক মহলে এখন সাজো সাজো রব। তার আগমন উপলক্ষে শিলিগুড়ি ও লাগোয়া এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

জন বার্লার যোগদান ও সফরের নতুন মাত্রা:

মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের ঠিক আগে গত বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী জন বার্লার তৃণমূলে যোগদান উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের চা বাগান অঞ্চলে আদিবাসী নেতা হিসেবে বার্লা তাঁর নেতৃত্বের জন্য সুপরিচিত। রাজ্য স্তরের কমিটিতে এবং চা বাগান অঞ্চলেও তাঁর দক্ষতা কাজে লাগানো হবে বলে দল মনে করছে। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী জানিয়েছেন, জন বার্লার যোগদানে চাবাগান অঞ্চলে তৃণমূলের সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।

এই সফরের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী যেমন উত্তরবঙ্গের শিল্প ও উন্নয়ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবেন এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন, তেমনই জন বার্লার যোগদানের পর তার এই সফর রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।