ঝাড়গ্রামে হাতির তাণ্ডবে ফের মৃত্যু, ঘুমোনো বৃদ্ধ কে পেঁচিয়ে আছাড়, শোকের ছায়া গ্রাম জুড়ে

ঝাড়গ্রাম জেলায় হাতির লাগাতার আক্রমণে ফের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ভোর রাতে পুকুরিয়া গ্রামে খাবারের সন্ধানে আসা একটি হাতির তাণ্ডবে মৃত্যু হয়েছে পরিমল মাহাতো নামের এক বৃদ্ধের। বাড়ির উঠোনে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ওই বৃদ্ধকে হাতিটি শুঁড়ে পেঁচিয়ে তুলে আছড়ে ফেললে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় গোটা গ্রাম এবং জেলাজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, বাঁদরভুলার দিক থেকে আসা চারটি হাতির একটি দল এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বেশ কয়েক মাস ধরেই ঝাড়গ্রাম জেলায় হাতির উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। মূলত দলমার হাতির দল এই এলাকায় আশ্রয় নেওয়ায় জঙ্গল এবং তার কাছাকাছি থাকা গ্রামগুলির মানুষের জীবনযাত্রা ও রুজি রোজগার ব্যাহত হচ্ছে। জঙ্গলের ফল, মূল, পাতা সহ বিভিন্ন বনজ সম্পদের উপর নির্ভরশীল স্থানীয় বহু মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়েও জঙ্গলে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছেন। একইভাবে, জঙ্গল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারাও চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন, কারণ ইচ্ছে থাকলেও সহজে তাঁরা অন্যত্র সরে যেতে পারছেন না।

এই পরিস্থিতিতে বনদফতর স্থানীয়দের জঙ্গলে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছে। তবে মানুষ-হাতি সংঘাতের এই সমস্যার সমাধানে ভিন্ন মত উঠে আসছে। জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার সভাপতি অশোক মাহাতো মনে করেন, মানুষ ও হাতি একসঙ্গে একই এলাকায় থাকতে পারে না এবং বনদফতরের উচিত তাদের জন্য আলাদা সুরক্ষিত এলাকা চিহ্নিত করা। তাঁর দাবি, এটি না করার কারণেই বারবার এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। অন্যদিকে, প্রাক্তন বনকর্তা সমীর মজুমদার একটি অন্য সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, হাতির তীব্র ঘ্রাণশক্তি রয়েছে এবং মদ বা হাঁড়িয়ার গন্ধ তাদের খুব আকৃষ্ট করে। তিনি অনুমান করেছেন, হয়তো ওই গ্রামে কোথাও মদ বা হাঁড়িয়া রাখা ছিল, যার গন্ধ শুঁকেই হাতিটি ওই বাড়িতে গিয়েছিল, অথবা হয়তো মৃত ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন।

এ বিষয়ে বন দফতরের কোনও আধিকারিকের সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বন প্রতিমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেছেন যে হাতিকে সচেতন করা সম্ভব নয়, তাই সাধারণ মানুষকেই সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও জানান, বনদফতর এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে এবং আগের তুলনায় হাতির আক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে গ্রামবাসীদের উদ্বেগ ও আতঙ্ক বর্তমানে চরমে।