পুলিশের মারে রক্তাক্ত হয়েও নেই রেহাই! ২১ মে বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরার নির্দেশ

নিজেদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলনরত যে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা এর আগে পুলিশের বিরুদ্ধে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ তুলেছিলেন, এবার সেই মার খাওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। তাদের বিধাননগর উত্তর থানায় হাজিরার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ মে তাদের সেখানে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে এবং নির্দেশ অমান্য করলে গ্রেফতার পর্যন্ত করা হতে পারে বলে নোটিসে উল্লেখ আছে বলে সূত্রের খবর। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষকদের অভিযোগ ছিল, এর আগে তাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে এবং পুলিশের লাঠির আঘাতে অনেকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পুলিশি অতিসক্রিয়তার বিরুদ্ধে সরব হওয়া হয়েছিল।
তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী, এবার সেই আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধেই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, সরকারি কর্মীদের কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া ও তাদের আটক করা, এবং হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের মারধরের অভিযোগেও পৃথক মামলা রুজু হয়েছে বলে জানা গেছে।
এই মামলাগুলির পরিপ্রেক্ষিতেই এবার আন্দোলনকারী শিক্ষকদের থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আগামী ২১ মে তাদের বিধাননগর উত্তর থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হয়ে তাদের সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে।
সূত্রের আরও খবর, থানায় পাঠানো নোটিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি আন্দোলনকারী শিক্ষকরা আগামী ২১ মে নির্দিষ্ট সময়ে বিধাননগর উত্তর থানায় হাজির না হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে এবং প্রয়োজনবোধে তাদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হতে পারে। এই হুঁশিয়ারি আন্দোলনকারীদের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
একদিকে শিক্ষকরা অভিযোগ করছেন যে পুলিশ তাদের মারধর করে রক্তাক্ত করেছে, অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধেই সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশকর্মীদের মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই পরিস্থিতি পুরো বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমে এবার আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। ২১ মে তারা থানায় হাজির হবেন কিনা, এবং এরপর এই মামলার জল কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।