আবাস যোজনা প্রকল্পে টাকা নিয়েও ঘর বানাননি প্রায় ৫২৪ জন! দ্রুত অর্থ ফেরত চেয়ে নোটিশ, বেঁধে দেওয়া হল সময়

কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে তাদের বরাদ্দ অর্থ আটকে রাখায় রাজ্য সরকার অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের কোষাগার থেকে অর্থ ব্যয় করে প্রকল্পগুলি সচল রেখেছে। এই তালিকায় অন্যতম হলো আবাস যোজনা। রাজ্য সরকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের বরাদ্দ আটকে রাখার প্রেক্ষাপটে বাংলার মানুষকে বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এই প্রকল্পের পূর্ববর্তী পর্যায়ে, যা কেন্দ্রীয় বরাদ্দেই চলছিল, সেই সময়কার ঘর তৈরির টাকা নিয়ে এবার একটি মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে রায়গঞ্জ পুরসভা এলাকায়।

অভিযোগ উঠেছে যে, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সরকারি টাকা পেয়েও অনেক উপভোক্তা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাড়ি তৈরি করেননি। এর জেরেই এবার তাদের কাছ থেকে টাকা দ্রুত ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে রায়গঞ্জ পুরসভা। এমন ৫২৪ জন উপভোক্তাকে ইতিমধ্যেই টাকা ফেরানোর জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই টাকা ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে পুলিশে এফআইআর দায়ের করা হবে এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রায়গঞ্জ পুরসভার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষ থেকে ২০২১-২২ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পুর এলাকায় মোট ৯৪৭৪ জন উপভোক্তার নাম প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় নথিভুক্ত হয়েছিল। এদের মধ্যে ১৪০০ জন উপভোক্তার নাম প্রাথমিক পর্যায়েই বিভিন্ন কারণে বাদ হয়ে যায়। বাকি ৮০৭৪ জনকে ঘর তৈরির জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নিয়মানুসারে টাকা দেওয়া হয়েছিল।

পুরসভার সাম্প্রতিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, এই আট হাজার উপভোক্তার মধ্যে ৫২৪ জন দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেননি, যদিও তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা ঢুকে গিয়েছিল। টাকা হাতে পেয়েও কাজের কাজ কিছুই না হওয়ায় পুরসভা তাদের চিহ্নিত করে এই টাকা ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে। গোটা বিষয়ে সার্ভে করে, উপভোক্তাদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে তারপরই নোটিস দিয়েছে পুরসভা।

রায়গঞ্জ পুরসভা সূত্রে খবর, ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষ থেকে ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির জন্য বিভিন্ন কিস্তিতে টাকা দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত ৫২৪ জন উপভোক্তার মধ্যে কেউ ১ লক্ষ টাকা, কেউ ৫০ হাজার টাকা, আবার কেউ ৪৫ হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান পেয়েছেন। কিন্তু টাকা পেয়েও তারা নিয়ম মেনে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ি তৈরির কাজ সম্পন্ন করেননি বা শুরুই করেননি।

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে প্রকল্পের বাস্তব রূপায়ণে নজরদারির অভাব ছিল এবং এর ফলে সরকারি অর্থের অপব্যবহার হয়েছে। পুরসভার এই কড়া পদক্ষেপ সরকারি প্রকল্পের টাকা নিয়ে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে একটি বার্তা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।