বিয়ের আসরে শোকের ছায়া! মঙ্গলসূত্র পরানোর পরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন বর

বিয়ের ভরা মণ্ডপে চলছিল সমস্ত সামাজিক রীতি-আচার। হাসি-খুশি পরিবেশে বর কনের গলায় পবিত্র মঙ্গলসূত্র পরিয়ে দিলেন। আর তার ঠিক পরেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ঘটনা। হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করে ২৫ বছর বয়সী যুবক বর সেখানেই উপস্থিত সকল আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবের সামনে ঢলে পড়লেন। যে পবিত্র মঙ্গলসূত্রের বন্ধনের মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, সেই বন্ধন ছিন্ন করে মুহূর্তেই পরলোকে পাড়ি দিলেন যুবক। আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকে এমন করুণ পরিণতি ঘটেছে কর্ণাটকের বাগলকোট জেলার জামখন্ডি শহরে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার। বিয়েতে উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ২৫ বছর বয়সী যুবক প্রবীণ তার বিবাহ আসরে বসেছিলেন। কনের গলায় মঙ্গলসূত্র পরিয়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি বুকে প্রবল ব্যথা অনুভব করেন এবং সকলকে তা জানান। এর পরেই তিনি মণ্ডপের মধ্যেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
উপস্থিত আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রবীণকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রমবর্ধমান হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, কর্ণাটকের এই ঘটনাটি তার আরও একটি করুণ উদাহরণ। সাম্প্রতিক সময়ে অল্পবয়সী বা তুলনামূলক কমবয়স্কদের মধ্যেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মধ্যপ্রদেশের একটি সঙ্গীত অনুষ্ঠানে বিয়ের ঠিক আগেই ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী একইভাবে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। গত বছর ডিসেম্বরে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে একটি স্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সময় মাঠে দৌড়াতে গিয়েই ১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছিল আকস্মিক হৃদরোগে।
এমনকি তুলনামূলক বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনা ঘটছে। এই বছর এপ্রিল মাসেই উত্তরপ্রদেশের একটি ম্যারেজ হলে ৫০ বছর বয়সী এক জুতো ব্যবসায়ী তার ২৫তম বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে স্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে নাচতে নাচতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাকেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।
চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা ক্রমবর্ধমান এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং অন্যান্য বিভিন্ন কারণ অল্প ও বেশি বয়সী সকলের মধ্যেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বিয়ের মণ্ডপ, খেলার মাঠ বা কোনো অনুষ্ঠানে হঠাৎ এমন ঘটনা সবাইকে স্তম্ভিত করে দিচ্ছে এবং এই নীরব ঘাতক সম্পর্কে নতুন করে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।