‘ভারত-পাক যুদ্ধ বিরতি চুক্তি বলবৎ রয়েছে, মেয়াদ শেষ হওয়ার খবর ভিত্তিহীন’- স্পষ্ট করল ভারতীয় সেনা

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত ১০ মে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হচ্ছে না এবং তা এখনও বলবৎ রয়েছে বলে ভারতীয় সেনাবাহিনী আজ স্পষ্ট করে জানিয়েছে। একইসঙ্গে, কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবর যে আজ (নির্দিষ্ট দিনের উল্লেখ, যেমন ১৮ মে, যদি প্রযোজ্য হয়) সামরিক অপারেশনের ডিজিএমও (Director General of Military Operations) পর্যায়ে কোনো আলোচনা হবে, সেই খবরকেও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে নাকচ করে দিয়েছে সেনাবাহিনী।

ভারতীয় সেনার এক বিবৃতিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ১২ মে ভারত ও পাকিস্তানের ডিজিএমও-দের মধ্যে হটলাইনে আলোচনার মাধ্যমে যে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা এখনও কার্যকর রয়েছে এবং এর কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রশ্ন নেই। সেনাবাহিনী আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, “আজ কোনো ডিজিএমও আলোচনার পরিকল্পনা নেই।” এই স্পষ্টীকরণ এমন এক সময়ে এলো যখন সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা চলছে এবং দুই দেশই শান্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ মে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের তীব্র সীমান্ত সংঘর্ষের অবসান ঘটেছিল। এই সংঘর্ষে দুই পক্ষই ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করেছিল, যা বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছিল। এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে একটি জঙ্গি হামলার পর। এই হামলার জবাবে ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিগুলির উপর নির্ভুল হামলা চালায়। এরপর পাকিস্তান ৮, ৯ এবং ১০ মে ভারতীয় সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আক্রমণের চেষ্টা করে, যার জোরালো জবাব দেয় ভারত এবং পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।

এই সংঘাতের পর উত্তেজনা কমাতে ১২ মে ভারতের ডিজিএমও লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই এবং পাকিস্তানের ডিজিএমও মেজর জেনারেল কাশিফ আবদুল্লাহ হটলাইনে প্রায় ৪৫ মিনিটের একটি জরুরি আলোচনা করেন। এই আলোচনায় দুই পক্ষ সীমান্তে আরও সামরিক উত্তেজনা রোধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুসারে, দুই পক্ষই “আক্রমণাত্মক ও শত্রুভাবাপন্ন” কার্যকলাপ এড়ানোর এবং এমনকি একটি গুলি চালানো থেকেও বিরত থাকার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এছাড়াও, সীমান্ত ও অগ্রবর্তী এলাকায় সৈন্য সংখ্যা কমানোর জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে, যা উত্তেজনা হ্রাসের একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শান্তি ও স্থিতিশীলতার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার খবর প্রচারিত হয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর আজকের স্পষ্টীকরণ সেই গুজবের অবসান ঘটিয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ১২ মে-র চুক্তি এখনও কার্যকর এবং এটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।

এই যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিশ্রুতি পালনের উপর। উভয় দেশের ডিজিএমও-দের আলোচনা এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টা একটি আশাব্যঞ্জক শুরু হলেও, দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য আরও কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং সেনাবাহিনীর স্পষ্টীকরণ ভারত ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে যে সীমান্তে শান্তি বজায় থাকবে।