টেস্ট ক্রিকেট থেকে আচমকা অবসর, স্ত্রীকে নিয়ে বৃন্দাবনে বিরাট! হাতে জপ কাউন্টিং মেশিন

টেস্ট ক্রিকেট থেকে আচমকা অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার একদিন পরেই ভারতীয় ব্যাটিংয়ের কিংবদন্তি বিরাট কোহলি স্ত্রী অনুষ্কা শর্মাকে নিয়ে বৃন্দাবনে আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজের দর্শন করলেন। গত ১৩ মে, মঙ্গলবার, এই তারকা দম্পতি বৃন্দাবনের শ্রীরাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রমে যান এবং প্রেমানন্দ মহারাজের আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।

বিরাট ও অনুষ্কার প্রেমানন্দ মহারাজের সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি ও ভিডিও দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। আশ্রমে মহারাজজির সঙ্গে তাঁদের আধ্যাত্মিক কথোপকথনের কিছু মুহূর্ত ভিডিওতে ধরা পড়েছে, যেখানে অনুষ্কাকেও মহারাজজির কথা মন দিয়ে শুনতে দেখা গেছে। প্রেমানন্দ মহারাজের শ্রীরাধা কেলি কুঞ্জ আশ্রম থেকে বের হওয়ার সময় বিরাট কোহলির হাতে একটি জপ গণনার যন্ত্র (জপ কাউন্টিং মেশিন) দেখা যায়। গাড়িতে ওঠার সময় কোহলির হাতে এটি স্পষ্টতই ক্যামেরাবন্দী হয়। ভক্তদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে সম্ভাষণ জানানোর পর তিনি বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন।

গত ১২ মে, সোমবার, বিরাট কোহলি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টের মাধ্যমে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে ভারতের হয়ে সাদা পোশাকে তাঁর বর্ণময় ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটে। বিরাট কোহলি তাঁর টেস্ট জীবনে ১২৩টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ৪৬.৮৫ গড়ে সংগ্রহ করেছেন ৯,২৩০ রান, যার মধ্যে রয়েছে ৩০টি শতরান। অধিনায়ক হিসেবেও কোহলির রেকর্ড দুর্দান্ত। তিনি ৬৮টি টেস্টে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৪০টি ম্যাচে জয় এনে দিয়েছেন, যা যেকোনো ভারতীয় অধিনায়কের সর্বোচ্চ টেস্ট জয়।

বিরাট কোহলির এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট মহলকে কিছুটা বিস্মিত করেছে। ভারতের প্রাক্তন কোচ রবি শাস্ত্রী কোহলির অবসরের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন যে, ধারাবাহিক প্রত্যাশা এবং জনমানসের প্রবল চাপের কারণে বিরাট হয়তো ‘মানসিকভাবে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত’ হয়ে পড়েছিলেন। রবি শাস্ত্রীর মতে, কোহলির শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী আরও দুই-তিন বছর টেস্ট ক্রিকেট খেলা উচিত ছিল।

রবি শাস্ত্রী আরও জানান যে, অবসরের ঘোষণার প্রায় এক সপ্তাহ আগেই বিরাটের সঙ্গে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছিল। ‘দ্য আইসিসি রিভিউ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাস্ত্রী বলেন, “আমি ওর সঙ্গে অবসর নিয়ে কথা বলেছিলাম, সম্ভবত ঘোষণার এক সপ্তাহ আগে। ওর মন পুরোপুরি স্থির ছিল, বলেছিল সব কিছু উজাড় করে দিয়েছে, কোনও আফসোস নেই।”

শাস্ত্রীর মতে, কোহলির সংক্রামক ব্যক্তিত্ব এবং তার চারপাশে সবসময় থাকা প্রচারের আলো তাকে ক্লান্ত করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “ওর ঝলমলে কৃতিত্ব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে। গত দশকে ওর চেয়ে বড় ফলোয়িং আর কোনও ক্রিকেটারের ছিল না। অস্ট্রেলিয়া হোক বা দক্ষিণ আফ্রিকা, মানুষ শুধু ওকে দেখার জন্য খেলা দেখত।”

আগামীতে বিরাট কোহলিকে আইপিএল ২০২৫-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলতে দেখা যাবে। শনিবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তার খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভক্তরা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। বৃন্দাবনে আধ্যাত্মিক গুরুর সান্নিধ্য গ্রহণ কোহলির জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের শুরুতে তার মানসিক শান্তির অন্বেষণ বলেই মনে করা হচ্ছে।