“মুসলিম পুরুষ একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী রাখতে পারেন”-জানালো এলাহাবাদ হাইকোর্ট

একজন মুসলিম পুরুষ একসঙ্গে একাধিক স্ত্রী রাখতে পারেন বলে জানিয়েছে ভারতের একটি হাইকোর্ট। তবে আদালত এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও আরোপ করেছে। যদি কোনো মুসলিম পুরুষ তার সকল স্ত্রীর সঙ্গে সমান আচরণ করেন অর্থাৎ সব স্ত্রীকে সমান মর্যাদা ও অধিকার দেন, তবেই তিনি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী একাধিক বিয়ে করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্ট একটি মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি অরুণ কুমার সিং দেশওয়াল এই মন্তব্য করেন। আদালত তার ১৮ পৃষ্ঠার অভিমতে বলেছেন, ইসলামে চারটি পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি রয়েছে, তবে তা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ এবং বৈধ কারণ থাকতে হবে। এই বিধান অনুযায়ী, একজন মুসলিম পুরুষ ধর্মীয় বিধি অনুযায়ী একাধিক বিয়ে করতে পারেন, তবে শর্ত হলো তিনি সব স্ত্রীকে সমান মর্যাদা ও ন্যায্যতা দেবেন।

তবে আদালত এও বলেছে, কোরআনে নির্দিষ্ট কারণে একাধিক বিয়ের অনুমতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে অনেক পুরুষই একে নিজস্ব স্বার্থে অপব্যবহার করেন। বিচারপতি দেশওয়াল বলেন, অনেক সময় এই বিধানকে “স্বার্থপরভাবে ব্যবহার” করা হয়।

মামলার প্রেক্ষাপট:
এনডিটিভি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফুরকান। তিনি মোরাদাবাদের একটি আদালতের চার্জশিট, সমন এবং বিচার শুরুর আদেশ বাতিল চেয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। ঘটনাটি ২০২০ সালের। অভিযোগে বলা হয়, ফুরকান একজন নারীকে বিয়ে করেন তার পূর্বের বিবাহের তথ্য গোপন রেখে। বিয়ের পর ওই নারী দাবি করেন তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় মোরাদাবাদ থানায় ফুরকানসহ তিনজনের নামে একটি মামলা দায়ের হয় এবং তাদের নামে সমন জারি করা হয়।

ফুরকানের পক্ষের আইনজীবী আদালতে যুক্তি দেন যে, ওই নারী নিজেই স্বীকার করেছেন তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং সম্পর্কের ভিত্তিতেই বিয়ে হয়েছে। তাই এটিকে জালিয়াতি বা গোপন বিয়ে হিসেবে গণ্য করা ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, ফুরকান তার আগের বিয়ের বিষয়টি গোপন করলেও একাধিক বিয়ে মুসলিম ধর্ম অনুযায়ী বৈধ হওয়ায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারার (একাধিক স্ত্রী থাকা অবস্থায় পুনরায় বিবাহ) অধীনে তার বিরুদ্ধে এই অপরাধের বিষয়টি প্রযোজ্য নয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়:
বিচারপতি দেশওয়াল তার পর্যবেক্ষণে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ইসলামে চারটি পর্যন্ত বিয়ের অনুমতি রয়েছে, তবে তা নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষ এবং বৈধ কারণ থাকতে হবে। তিনি বলেন, মুসলিম ব্যক্তির বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত বিষয়গুলো ‘শরিয়ত অ্যাক্ট, ১৯৩৭’-এর আলোকে বিচার করা উচিত।

বিচারপতি দেশওয়াল তার রায়ে উল্লেখ করেন যে, এই নির্দিষ্ট মামলায় ফুরকানের দ্বিতীয় বিয়েটি বৈধ, কারণ উভয় স্ত্রী মুসলিম ধর্মাবলম্বী। আর তাই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় এই মামলা প্রযোজ্য নয়।

ইউনিফর্ম সিভিল কোড প্রসঙ্গে:
একইসঙ্গে বিচারপতি দেশওয়াল ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) চালুর পক্ষেও মত দেন। তিনি বলেন, ইউসিসি চালু হলে সব ধর্মে বিয়ের নিয়ম একই করা সম্ভব হবে, যা সমাজে সমতা আনতে সহায়ক হতে পারে।

আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৬ মে দিন ধার্য করেছে। এই রায় মুসলিম পুরুষদের একাধিক বিয়ের অধিকারকে শর্তসাপেক্ষ বৈধতা দেওয়ার পাশাপাশি এর অপব্যবহার এবং দেশে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।