কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে ‘সন্ত্রাসীদের বোন’ বলে উল্লেখ, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেবে BJP?

ভারতীয় সেনার কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন মধ্যপ্রদেশের আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বিজয় শাহ। তার এই মন্তব্যে ভারতীয় জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় মন্ত্রী বিজয় শাহের আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রিত্ব বিপদের মুখে পড়েছে এবং তাকে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিতে বলা হতে পারে অথবা বরখাস্ত করা হতে পারে। এর আগে এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই আদালতের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, মন্ত্রী বিজয় শাহের মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব নিজেও অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। পরিস্থিতি সামাল দিতে গভীর রাতে দলের রাজ্য সভাপতি এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল বিজয় শাহের মন্তব্য এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব। এই বৈঠকের পরেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সোশ্যাল হ্যান্ডেল থেকে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে চলার বার্তা দেওয়া হয়, যা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর সংক্রান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনায় বিজেপির প্রবীণ নেত্রী এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উমা ভারতীও বিজয় শাহের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে তাকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রেক্ষিতে কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ভারতের শক্তির প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছেন। সেই কর্নেল সোফিয়াকে নিয়েই মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কুমার বিজয় শাহ বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। প্রথমে তিনি মোদীর প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন, “মোদীজি সমাজের জন্য লড়াই করছেন। যারা আমাদের মেয়েদের বিধবা করেছিল, আমরা তাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের মধ্যে থেকেই এক বোনকে পাঠিয়েছিলাম!” তার এই মন্তব্যের জেরে বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং অভিযোগ ওঠে যে তিনি কর্নেল সোফিয়াকে প্রচ্ছন্নভাবে ‘জঙ্গিদের বোন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তীব্র চাপের মুখে বিজয় শাহ তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, “বোন সোফিয়া জাতি ও ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে ভারতের গৌরব বয়ে এনেছেন। তিনি আমাদের নিজের বোনের চেয়েও বেশি সম্মানিত। জাতির প্রতি তাঁর সেবার জন্য আমি তাঁকে অভিনন্দন জানাই। আমরা স্বপ্নেও তাকে অপমান করার কথা ভাবতে পারি না। তবুও, যদি আমার কথা সমাজ ও ধর্মকে আঘাত করে থাকে, তাহলে আমি দশবার ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “এখন মোদীজি তো আর একই কাজ করতে পারবেন না। তাই তিনি তাদেরই সমাজের এক বোনকে পাঠিয়েছিলেন। যাতে (বোঝা যায়) তোমরা যদি আমাদের বোনেদের বিধবা করো, (তাহলে) তোমাদেরই এক বোন আসবে তোমাদের পোশাক খুলে নিতে। ওঁরা (কর্নেল সোফিয়া কুরেশিরা) আসলে আমাদেরই বোন। এবং ওঁরাও ভারতের সশস্ত্রবাহিনীর সঙ্গে একত্রে বীর বিক্রমে সংগ্রাম করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদী হামলার ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ নিয়েছেন।”

মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই বিরোধী দল কংগ্রেস তার পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়। এমনকি কংগ্রেস কর্মীরা মন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং তার বাড়ির দেওয়ালে কালিও লেপে দেয়।

যদিও মন্ত্রী ক্ষমা চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রীর অসন্তুষ্টিতে তার মন্ত্রিত্ব কতটা সুরক্ষিত থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, যেকোনো মুহূর্তে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।