“সেনার গুলিতে খতম ১০ জঙ্গি”-মণিপুরে উদ্ধার হলো প্রচুর অস্ত্র-গোলাবারুদ

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে জঙ্গিদমন অভিযানে বড় সাফল্য পেল ভারতীয় সেনাবাহিনী। মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া চান্দেল জেলায় আসাম রাইফেলসের জওয়ানদের সঙ্গে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে ১০ জন জঙ্গির। 1 এই অভিযানকে ওই অঞ্চলে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, চান্দেল জেলার মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে কিছু জঙ্গি ঘাঁটি গেড়েছে বলে গোপন সূত্রে খবর আসে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার জেলার খেংজয় তহসিলের নিউ সামতাল গ্রামের কাছে আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা একটি বিশেষ তল্লাশি অভিযান শুরু করেন। জঙ্গিরা এলাকায় জওয়ানদের উপস্থিতি টের পেয়েই তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় সেনাবাহিনীও। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে এই গুলির লড়াই।
সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের তরফে এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্টে বলা হয়েছে, “ভারত-মায়ানমার সীমান্ত লাগোয়া চান্দেল জেলার খেংজয় তহসিলের নিউ সামতাল গ্রামের কাছে আসাম রাইফেলসের জওয়ানরা অভিযান চালিয়েছেন। গুলিতে ১০ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রচুর অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। তল্লাশি এখনও চলছে।”
উল্লেখ্য, গত দু’বছর ধরে মণিপুর মেইতেই ও কুকি গোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত সংঘর্ষ ঘিরে উত্তাল রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই অস্থির পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে সেখানে চিনপন্থী বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে গত ৮ মে থেকে উত্তর-পূর্বের রাজ্যটিতে জঙ্গিদমন অভিযান শুরু হয়েছে। বুধবারের এই সফল অভিযান সেই বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর এই সাফল্যে মণিপুরে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির শক্তি হ্রাস পাবে এবং অঞ্চলে শান্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে কিছুটা হলেও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং লুকিয়ে থাকা অন্য জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে।