অপারেশন সিঁদুরের জের, ধস নামল পাকিস্তানের শেয়ার বাজারে, ভারতের কী অবস্থা?

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দুই দেশের শেয়ার বাজারে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের শেয়ার বাজার খোলার পরই ব্যাপক ধস নামে, যা সামাল দিতে না পেরে লেনদেন বন্ধ করে দিতে হলো কর্তৃপক্ষকে। অন্যদিকে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও ভারতীয় শেয়ার বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে, যা অনেকের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ।

ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে বৃহস্পতিবার (৮ মে) করাচি স্টক এক্সচেঞ্জ (KSE) খোলার পরই বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রি শুরু হয়। এর ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানের শেয়ার বাজারে ব্যাপক ধস নামে। বেঞ্চমার্ক কেএসই-১০০ সূচক ৬% এরও বেশি নেমে যায়। পরিস্থিতির অবনতি দেখে এবং সূচকের পতন ঠেকাতে পাক কর্তৃপক্ষ শেয়ার বাজারে লেনদেন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট থেকে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এই নিয়ে টানা চতুর্থ দিন পাকিস্তানের শেয়ার বাজারে লোকসানের মুখ দেখল। গত কয়েকদিন ধরেই পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি এলাকায় ভারত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হয়েছিল গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভারতীয় নাগরিকদের উপর সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়। এরপর থেকেই বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রি করছেন, যার প্রভাব বাজারে পড়ছে। বুধবার পাকিস্তানের শেয়ার বাজার দিনের বেলায় ৬.২% পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল, যদিও কিছু লোকসান পুষিয়ে শেষে ৩.১৩% কমে বন্ধ হয়েছিল।

বর্তমানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন পাকিস্তানের প্রায় ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এমনিতেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। মানি কন্ট্রোলের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে তহবিল সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এই দিকে বিনিয়োগকারীদেরও বিশেষ নজর রয়েছে, যার ফলাফল আগামীকাল (শুক্রবার) জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও হামলার পর থেকে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কায় পাকিস্তানের কেএসই-১০০ সূচক ইতিমধ্যেই ১৩% হ্রাস পেয়েছে। কেএসই ৩০-সূচকেরও প্রায় একই পরিমাণ পতন লক্ষ্য করা গেছে।

অন্যদিকে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার এই পরিস্থিতিতেও ভারতীয় শেয়ার বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পর দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবারও ভারতীয় স্টক এক্সচেঞ্জে স্থিতিশীল লেনদেন হয়েছে। যদিও এদিন বাজার একটি নির্দিষ্ট রে়ঞ্জের মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে, তবুও পাকিস্তানের বাজারের মতো বড়সড় ধস এখানে দেখা যায়নি। বিশ্লেষকরা মূলত ভারতীয় শেয়ার বাজারে এই স্থিতিশীলতাকে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য এবং ভারতের শক্তিশালী সামরিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের ফল হিসাবে দেখছেন।

ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতীয় শেয়ার বাজার সাধারণত গুরুতর ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার পর তুলনামূলকভাবে স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। ২০০১ সালে সংসদ হামলা ছাড়া, অন্যান্য সব বড় ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার পরেই ভারতীয় বাজার মধ্যম থেকে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে বা শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিও তেমনই এক চিত্র তুলে ধরছে বলে মনে করছেন অনেকে।