ভূস্বর্গে নিরাপত্তা উদ্বেগ ও প্রত্যাঘাতের প্রস্তুতি! বায়ুসেনাকে ফ্রি হ্যান্ড, এবার কী করবে পাকিস্তান?

কাশ্মীরে সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা এবং ভারত-পাক সীমান্ত পরিস্থিতি নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই আবহে কেন্দ্রের মোদি সরকার দেশের বায়ুসেনাকে সম্পূর্ণ ‘ফ্রি হ্যান্ড’ বা অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সীমান্ত বা দেশের অভ্যন্তরে যে কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখা গেলে তা প্রতিহত করতে এবং প্রয়োজনে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ কি তাহলে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্তে কোনো বড়সড় আশঙ্কার পূর্বাভাস পাচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন বিভিন্ন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। পরিস্থিতি কতটা গুরুতর, তা আঁচ করা যায় প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যেখানে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই রহস্য ঘনীভূত হয়েছে পাঞ্জাবের অমৃতসর জেলার একটি গ্রামে একটি সন্দেহজনক বস্তুর সন্ধান মেলার পর। ওই গ্রামে একটি রহস্যময় রকেট বা ক্ষেপনাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেছে। গ্রামবাসীরা প্রথমে এই বস্তুটি দেখে চমকে যান এবং সন্দেহ হওয়ায় দ্রুত সেনাবাহিনীকে খবর দেন। পরে সেনার পক্ষ থেকে এসে বস্তুটি উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। কীভাবে এই রকেটটি সেখানে এল, এটি কি কোনো ব্যর্থ হামলা বা অন্য কিছুর অংশ – এই নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন এবং সামরিক মহলে চাপানউতোর ও জল্পনা শুরু হয়েছে। এই ঘটনাটি বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে, পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার পর দেশজুড়ে যে কঠোর প্রত্যাঘাতের দাবি উঠেছিল, তার জবাব দিয়েছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। ২৫ জন ভারতীয়র মৃত্যুর বদলা মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি উঠেছে। এই অভিযানকে ‘অপারেশন সিদূর’ নাম দিয়ে বর্ণনা করা হচ্ছে, যেখানে ‘সিঁদুর মোছার’ অর্থাৎ শোকের প্রতিশোধ নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এই অভিযানে ভারতীয় সেনা পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে লুকিয়ে থাকা লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির একাধিক সদর দফতর বা প্রশিক্ষণ শিবির লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ব্যবহার করা হয়েছে স্ক্যাল্প মিসাইল এবং হ্যামার বোমার মতো অত্যাধুনিক অস্ত্র। এই অতর্কিত হামলা পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে সম্পূর্ণ মুখ থুবড়ে ফেলে দেয় এবং আকস্মিকতায় দিশেহারা হয়ে পড়ে পাক বাহিনী। এই অভিযানের সাফল্য গভীর রাতে পর্যবেক্ষণ করেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তিনি এটিকে ‘আজ গর্বের দিন’ বলে আখ্যায়িত করেন বলে সূত্রের খবর।
যদিও এই বড় অভিযানের পাশাপাশি সীমান্ত সংঘাতও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে সীমান্ত সংঘাতের মাধ্যমে ১০ জন নিরীহ ভারতীয়কে হত্যা করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর পাল্টা জবাব দিয়েছে ভারতও। ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ১০ জন পাক সেনার নিকেশ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী, যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন বলে খবর। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রাজ্যগুলির প্রস্তুতি নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
পহেলগাঁও কাণ্ডের পর থেকেই পাকিস্তানের উপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেশের অভ্যন্তরে প্রবল জনমত তৈরি হয়েছিল। আর সেই প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় পাকিস্তানও এক প্রকার ‘সিঁদুরে মেঘ’ দেখছিল বা খারাপ কিছুর আশঙ্কা করছিল বলেই মনে করছেন অনেকে। সমস্ত ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে ভূস্বর্গের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে।