রেল রোকো আটকাতে অভিনব আইনি পদক্ষেপ উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের! জানুন বিস্তারে…

রেলওয়ে ট্র্যাকে ‘রেল রোকো’ আন্দোলন বা অবরোধ রোধ করার জন্য এবার কড়া ও অভিনব আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করল উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (Northeast Frontier Railway – NFR)। রেললাইনে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভের ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ প্রয়োগে আর্থিক বিষয়কে যুক্ত করে একটি বিশেষ কৌশল নিয়েছে এই জোন। ভারতীয় রেলওয়ের ইতিহাসে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত করার জন্য দায়ীদের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের এই উদ্যোগ একটি বিরল পদক্ষেপ।

উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেল এই বিষয়ে নাগরিক ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করা শুরু করেছে। এটি একদিকে যেমন ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত করার জন্য দায়ীদের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায় করবে, তেমনই ভারতীয় রেলওয়ের পরিবেশতন্ত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল পদক্ষেপ। এই কাজটি রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ) দ্বারা রেলওয়ে আইনের অধীনে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি করা হচ্ছে, যাতে এই ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টিকারীদের জন্য কঠোর আইনি পরিণাম নিশ্চিত করা যায়।

এই পদক্ষেপের অধীনে, দীর্ঘদিনের রেল অবরোধের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ৫.৯৪ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে আলিপুরদুয়ার এবং মালদহের দেওয়ানি আদালতে ইতিমধ্যেই দুটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক প্রভাবও দেখা গিয়েছে। এর ফলে চারটি পূর্ব পরিকল্পিত রেল রোকো কার্যসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

আরপিএফ এবং উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজারের আইন কার্যালয়ের দ্বারা সমর্থিত সিনিয়র ডিভিশনাল অপারেশনস ম্যানেজারদের (সিনিয়র ডিওএম) নেতৃত্বে পরিচালিত এই সমন্বিত প্রচেষ্টাকে জোনের মধ্যে প্রশাসনিক সংকল্প এবং আইনি উদ্ভাবনের একটি মডেল হিসেবে দেখা গেছে। উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, স্থায়ী পদক্ষেপ এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থনের মাধ্যমে, ভারতীয় রেলওয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উত্তর পূর্ব সীমান্ত রেল আন্দোলনের জন্য রেলওয়ে ট্র্যাকের অপব্যবহার কমাতে ও নিরবিচ্ছিন্ন ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

এই নতুন কৌশলটি রেল অবরোধের মতো জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টিকারী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে এক নতুন ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনি মামলার পাশাপাশি আর্থিক দায়ের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমবে বলেই মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।