“ফিজ়িক্স, অঙ্কে ১০০-য় ১০০”- বাংলা-ইংরেজিতে কত? দেখেনিন উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম রূপায়ণের মার্কশিট

সদ্য প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক ২০২৫-এর ফলাফলে ৪৯৭ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে পূর্ব বর্ধমানের সিএমএস হাইস্কুলের ছাত্র রূপায়ণ পাল। তার এই অসাধারণ সাফল্যে চতুর্দিকে অভিনন্দনের বন্যা বইছে। কোন বিষয়ে কত নম্বর পেল রূপায়ণ এবং কীভাবে এই ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করল, তা জানার আগ্রহ স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে। আসুন, একনজরে দেখে নেওয়া যাক টপারের মার্কশিট এবং তার পড়ার কৌশল।
রূপায়ণ পালের মূল বিষয়গুলি ছিল বাংলা, ইংরেজি, ফিজ়িক্স, কেমিস্ট্রি, অঙ্ক এবং বায়োলজি – মোট ৬টি বিষয়। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, সেরা পাঁচটি বিষয়ের মোট নম্বর দিয়ে মেধাতালিকা তৈরি হয়। রূপায়ণ প্রতিটি বিষয়ে যে নম্বরগুলো পেয়েছে (থিওরি + প্র্যাকটিক্যাল/প্রজেক্ট):
- বাংলা: থিওরি ৭৮ + প্র্যাকটিক্যাল ২০ = মোট ৯৮
- ইংরেজি: থিওরি ৭৭ + প্র্যাকটিক্যাল ২০ = মোট ৯৭
- কেমিস্ট্রি: থিওরি ৭০ + প্র্যাকটিক্যাল ৩০ = মোট ১০০
- অঙ্ক: থিওরি ৮০ + প্রজেক্ট ২০ = মোট ১০০
- ফিজ়িক্স: থিওরি ৭০ + প্র্যাকটিক্যাল ৩০ = মোট ১০০
- বায়োলজি: থিওরি ৬৯ + প্র্যাকটিক্যাল ৩০ = মোট ৯৯
এই ছয়টি বিষয়ের মধ্যে রূপায়ণের সেরা পাঁচটি বিষয়ের মোট নম্বর দাঁড়িয়েছে ৪৯৭। এই সেরা পাঁচটি বিষয় হলো ফিজ়িক্স (১০০), কেমিস্ট্রি (১০০), অঙ্ক (১০০), বায়োলজি (৯৯), এবং বাংলা (৯৮)। ইংরেজি ৯৭ নম্বর হওয়ায় সেটি সেরা পাঁচের হিসেবে আসেনি।
কীভাবে এই সাফল্য পেল রূপায়ণ? সে জানায়, ধরাবাঁধা কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সারা বছর ধরে পড়াশোনা করেনি। তবে, বোর্ডের পরীক্ষার ঠিক একমাস আগে সে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছিল এবং তখন দৈনিক প্রায় ১২-১৩ ঘণ্টা সময় পড়াশোনার জন্য ব্যয় করতো। রূপায়ণের মূল লক্ষ্য ছিল সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলো, বিশেষ করে নিট ইউজি (NEET UG)। সেই পরীক্ষাগুলোর প্রস্তুতি নিতে গিয়েই তার বোর্ডের সিলেবাস ভালোভাবে তৈরি হয়ে যায়। বোর্ডের পরীক্ষার জন্যও সে নিয়ম মেনেই পড়াশোনা করত, তবে শেষ এক মাসের নিবিড় প্রস্তুতি তার এই ফলে বড় ভূমিকা রেখেছে।
রূপায়ণ পালের স্বপ্ন একজন চিকিৎসক হওয়ার। সে এই পেশায় এসে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়। ইতিমধ্যেই সে নিট পরীক্ষাও দিয়েছে এবং তার পরীক্ষা ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে। নিটেও ভালো র্যাঙ্ক হবে বলেই আশাবাদী বর্ধমানের এই কৃতী ছাত্র।
ধরাবাঁধা রুটিনের বাইরে গিয়ে, নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থেকে এবং শেষ মুহূর্তে নিবিড় প্রস্তুতি নিয়ে রূপায়ণ যে অসাধারণ ফলাফল করেছে, তা রাজ্যের বহু ছাত্রছাত্রীর কাছে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ডাক্তার হওয়ার তার স্বপ্নপূরণের জন্য রইল অশেষ শুভকামনা।