“যা মোদীকে গিয়ে বল…”-নৌসেনা শহিদের সেই স্ত্রী হিংমাশি বললেন, ভারতের ‘যোগ্য জবাব, তবে…?

গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারানো লেফটেন্যান্ট বিনয় নারওয়ালের স্ত্রী হিমাংশী নারওয়াল, ভারত কর্তৃক পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (POK)-এ জঙ্গি শিবিরগুলিতে চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-কে খোলা মনে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এই সামরিক অভিযানকে ২৬ জন প্রাণহানির জন্য দায়ীদের প্রতি ‘যথাযথ জবাব’ বলে অভিহিত করেছেন।
অভিযানের পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় হিমাংশী নারওয়াল বলেন, “আমাদের বাহিনী এবং মোদী সরকার সন্ত্রাসবাদী এবং তাদের হ্যান্ডলারদের কাছে একটি কড়া বার্তা পাঠিয়েছে। আমরা যে যন্ত্রণা সহ্য করেছি, ২৬টি পরিবার কী অসহনীয় কষ্ট সহ্য করেছে, তা এখন সীমান্তের ওপারের লোকদের কাছে জানানো হয়েছে।” তিনি মনে করেন, এই হামলা সন্ত্রাসবাদীদের কাছে স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে তাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করতেই হবে।
পহেলগাঁও হামলার দিনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে হিমাংশী জানান, হামলার সময় তিনি জঙ্গিদের বলেছিলেন যে তার বিয়ের মাত্র ছদিন হয়েছে এবং তিনি তাদের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন। কিন্তু জঙ্গিরা উত্তরে ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে বলেছিল, ‘মোদীর কাছে এর জন্য অনুরোধ কর’। তিনি বলেন, “আজ, মোদীজি এবং আমাদের সেনাবাহিনী তাদের সেই কথার জবাব দিয়েছে।”
‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও, হিমাংশীর মনে গভীর দুঃখও রয়েছে। তিনি বলেন, “পহেলগাঁও হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে, এতে সন্তুষ্টি আছে। তবে গভীর দুঃখও আছে। বিনয় এবং অন্য ২৬ জন আর আমাদের মধ্যে নেই।” প্রিয়জন হারানোর বেদনা যে কোনো প্রতিশোধেই পূর্ণ হয় না, তা তাঁর কথায় স্পষ্ট।
স্বামীর মৃত্যুর পরপরই হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের আহ্বান জানানো এবং কাশ্মীরিদের সমর্থন চাওয়ার জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং অন্য কোথাও যে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গেও কথা বলেন হিমাংশী। তিনি অভিযোগ করেন, তার মন্তব্যগুলি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বিকৃত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার কথাগুলো যেভাবে বিকৃত করা হয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধে যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তাতে আমি আহত হয়েছি। আমি একজন সাহসী সেনার স্ত্রী।” তিনি আরও বলেন, হামলার পর তিনি পহেলগাঁওয়ে দুঘন্টা একা দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং শুধু তিনি নন, অন্য ২৬ জন নিহত ব্যক্তির পরিবারের মহিলারাও সেখানে একই পরিস্থিতিতে ছিলেন। তারা আশা করেছিলেন সরকার এবং সেনাবাহিনী তাদের কষ্ট স্বীকার করবে এবং পাশে দাঁড়াবে।
পহেলগাঁও হামলায় আপনজনকে হারানো হিমাংশী নারওয়ালের এই প্রতিক্রিয়া একদিকে যেমন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পদক্ষেপের প্রতি একজন শহিদ-জায়ার সমর্থনকে তুলে ধরে, তেমনই প্রিয়জন হারানোর গভীর বেদনা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের যন্ত্রণা ফুটিয়ে তোলে। তার বার্তা বর্তমান উত্তেজনার পরিস্থিতিতে একটি মানবিক দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।