“স্কুলে তোতলা বলে সকলে অপমান করত”-তোতলামি থেকে মুক্তি পেতে যা করেছিলেন হৃতিক

বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশান যে ছোটবেলায় স্পষ্ট উচ্চারণ করে কথা বলতে পারতেন না এবং তোতলামির সমস্যায় ভুগতেন, সে কথা তিনি নিজেই বিভিন্ন সময়ে স্বীকার করেছেন। দীর্ঘকাল এই সমস্যা নিয়ে ভুগেছেন তিনি এবং অনেক বড় বয়স পর্যন্ত এই প্রতিবন্ধকতা তার সঙ্গে ছিল। তবে সম্প্রতি নায়কের দিদি সুনয়না রোশান এক সাক্ষাৎকারে হৃতিকের ছোটবেলার সেই কঠিন দিনগুলো এবং কীভাবে তিনি এই বিশাল প্রতিবন্ধকতাকে পেরিয়ে বলিউডের সফল অভিনেতা হয়ে উঠেছেন, সেই বিষয়ে আরও কিছু নতুন এবং স্পর্শকাতর তথ্য জানিয়েছেন।
হৃতিক রোশান নিজেই বহু সাক্ষাৎকারে তার ছোটবেলার স্পিচ ইমপেডিমেন্ট বা তোতলামির সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অনেক বড় বয়স পর্যন্ত এই সমস্যা তার সঙ্গে ছিল, যার কারণে তাকে নানাভাবে ভুগতে হয়েছে। এই সমস্যা কাটিয়ে বলিউডের সফল অভিনেতা হয়ে ওঠার যাত্রাপথ হৃতিকের জন্য মোটেও মসৃণ ছিল না। কথা স্পষ্ট করার জন্য তাকে দীর্ঘ সময় ধরে বিশেষ চিকিৎসা নিতে হয়েছিল এবং নিরন্তর অনুশীলন করতে হয়েছে। ছোটবেলায় এই অসুবিধার কারণে বন্ধুদের কাছে তিনি প্রায়শই মজার পাত্র হতেন। স্কুলের সামনে, সকলের সামনে তোতলামির জন্য তাকে অনেকে অপমানও করত, যা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং মানসিক চাপের ছিল।
হৃতিক রোশান স্বভাবগতভাবে খুবই অন্তর্মুখী বা চুপচাপ প্রকৃতির মানুষ। তার দিদি সুনয়না রোশান আবার সম্পূর্ণ বিপরীত, বহির্মুখী। সুনয়না জানান, খুব কম বয়সেই তার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল, তাই হৃতিকের সঙ্গে যে খুব বেশি কথা হতো বা ভাই তার সমস্ত কথা দিদির সঙ্গে ভাগ করে নিত, তেমনটা নয়। সম্ভবত এই কারণেই হৃতিকের কিছু ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কথা এতদিন সেভাবে প্রকাশ্যে আসেনি।
তবে সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে সুনয়না রোশান তার ভাইয়ের অধ্যবসায়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নিজের উচ্চারণ স্পষ্ট করার জন্য হৃতিক রোশানকে অবিশ্বাস্য পরিশ্রম করতে হয়েছে। ওর এই লড়াই আমি দেখেছি। প্রতিদিন ভোর ৪ টায় ঘুম থেকে উঠত, স্পিচ ক্লাস করত। তারপর দিনের বাকি কাজ শুরু করত।” সুনয়না অকপটে স্বীকার করে নেন যে, হৃতিক রোশান আজ যে জায়গায় পৌঁছেছেন এবং বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তার পেছনে রয়েছে তার নিজের অদম্য অধ্যবসায় এবং কঠোর পরিশ্রম।
হৃতিক রোশানের ছোটবেলার এই লড়াই এবং তা থেকে সাফল্যের গল্প অনেককেই অনুপ্রাণিত করে। দিদি সুনয়না রোশানের দেওয়া নতুন তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে, প্রতিভা থাকার পাশাপাশি যে কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করার জন্য কতটা জেদ এবং পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। এটি কেবল একজন তারকার গল্প নয়, বরং অদম্য ইচ্ছা শক্তির কাছে যেকোনো সীমাবদ্ধতা যে তুচ্ছ, তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ। তার জীবন প্রমাণ করে যে কঠিন পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসের জোরে যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।