বর্ষার আগমনী শুনিয়ে দিল আবহাওয়া দফতর, কবে থেকে ভিজবেন রিমঝিম বৃষ্টিতে?

খাতায় কলমে গ্রীষ্ম এখন মধ্যগগনে। ক্যালেন্ডার বলছে বৈশাখ মাস এখনও শেষ হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সাধারণত বর্ষা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা নয়। তবে এবার দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর আগমন নিয়ে এল স্বস্তির বার্তা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ু নির্দিষ্ট সময়েই ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে। আগামী নতুন সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ ১৩ থেকে ১৫ মের মধ্যে বর্ষা আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করবে।
আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মৌসুমী বায়ুর প্রবেশকেই ভারতে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং এটি নির্ধারিত সময়েই হচ্ছে। সাধারণত পয়লা জুন কেরালা দিয়ে ভারতে বর্ষার প্রধান প্রবেশ ঘটে, এবারও সেই তারিখেই বর্ষা ঢুকবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বাংলায় বর্ষা প্রবেশের নির্দিষ্ট তারিখ ১০ জুন হলেও, এবার তা নির্ধারিত সময়ে আসবে নাকি দেরি হবে বা কিছুটা এগিয়ে আসবে কিনা, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিসের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সোমনাথ দত্ত। কেরালায় বর্ষা প্রবেশের তারিখের উপরই বাংলার বর্ষার আগমনের সময় অনেকটাই নির্ভর করবে।
এদিকে, রাজ্যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, আজ বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টি এবং তার সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে এদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে।
তবে বুধবারের পর থেকে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হবে। গত কয়েকদিন ধরে যে বৃষ্টি ভেজা ঠাণ্ডার আমেজ মিলছিল, তা বৃহস্পতিবার থেকে আর থাকবে না। বৃহস্পতিবার থেকেই শুষ্ক গরমের অনুভূতি একটু একটু করে বাড়বে। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলোতে তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং বাকি জেলায় তপ্ত দিনের পূর্বাভাস রয়েছে। শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া থাকবে। নীচের দিকের জেলাগুলিতেও শুষ্ক আবহাওয়াই থাকবে। পরিষ্কার আকাশ এবং তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। শুক্রবার থেকে রবিবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। বৃহস্পতিবার থেকে রবিবার পর্যন্ত রাজ্যে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়াই থাকবে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চলবে। এদিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দার্জিলিং-সহ উপরের পাঁচ জেলাতেই রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার ঝড়ের সম্ভাবনা কমলেও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি চলবে। বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে দার্জিলিং-সহ ওপরের জেলায়। উত্তর দিনাজপুর জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
কলকাতায় মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১.২ ডিগ্রি কম। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৯ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল সর্বোচ্চ ৮৮ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৫৪ শতাংশ। আজ বুধবার দিনের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। রাতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি এবং ২৬ ডিগ্রির আশেপাশে থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
সব মিলিয়ে, বর্ষার প্রাথমিক পূর্বাভাস কিছুটা স্বস্তি আনলেও, আপাতত দক্ষিণবঙ্গবাসীকে আরও কয়েকদিন তীব্র গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আগামী কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে।