হেরিটেজ তালিকায় এবার গ্রামীণ স্থাপত্য, জেনেনিন কোন কোন স্থান পেতে পারে ঠাঁই?

কোচবিহার শহর ছাড়িয়ে এবার জেলার গ্রামীণ এলাকার প্রাচীন স্থাপত্য, ঐতিহাসিক ভবন এবং বিভিন্ন স্থানকে হেরিটেজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোচবিহার হেরিটেজ কমিটি। মঙ্গলবার জেলাশাসকের দপ্তরে অনুষ্ঠিত কমিটির এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তবে ইতিমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কারণ অভিযোগ উঠেছে যে শহরের হেরিটেজ তালিকাভুক্ত স্থানগুলিরই ঠিকঠাক ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হয় না এবং জবরদখল হওয়া দিঘিগুলোও উদ্ধার করা যায়নি।
মঙ্গলবার জেলাশাসকের দপ্তরে হেরিটেজ কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে কমিটির পেট্রন এবং কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র কোচবিহার শহর নয়, গোটা জেলাতেই হেরিটেজ এবং রাজ আমলের নানা সম্পত্তি, স্থাপত্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেগুলোকে চিহ্নিত করে হেরিটেজ তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ কোন কোন গ্রামীণ স্থানগুলি এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে তার কয়েকটি উদাহরণও তিনি দেন। এর মধ্যে রয়েছে তুফানগঞ্জের চিলা রায়ের গড়, দিনহাটার গোবরাছড়াতে অবস্থিত রাজ আমলের শিব মন্দির, মাথাভাঙ্গার পুরনো লাইব্রেরি–সহ আরও বহু ঐতিহাসিক ও প্রাচীন স্থান। তিনি জানান, এগুলিকে সব দ্রুত হেরিটেজ তালিকায় নিয়ে আসা হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে কমিটির সদস্যরা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে থাকা এই সমস্ত সম্ভাব্য হেরিটেজ স্থানগুলির একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবেন। এরপর সেই তালিকা পরবর্তী মিটিংয়ে কমিটির কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিটির অনুমোদন পাওয়ার পর প্রশাসন সেই তালিকাটি রাজ্যের অনুমোদনের জন্য পাঠাবে।
তবে এই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের অভিযোগ, কোচবিহারে এর আগে শহরের হেরিটেজ তালিকায় মোট ১৫৪টি স্থান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই স্থানগুলোর মধ্যে সাগরদিঘি, বৈরাগীদিঘির মতো কয়েকটি দিঘির সংস্কার এবং কয়েকটি পুরনো সরকারি দপ্তর, স্কুল, কলেজের আংশিক সংস্কার ছাড়া সে ভাবে এখনও বেশিরভাগ স্থানেরই কোনও রক্ষণাবেক্ষণ বা সংস্কার কাজ হয়নি। এর পাশাপাশি আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো, হেরিটেজ তালিকায় থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিঘি ইতিমধ্যেই জবরদখল হয়ে গেছে। কিন্তু প্রশাসন এখনও পর্যন্ত সেই দিঘিগুলোকে পুরোপুরি দখলমুক্ত করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে শহরের হেরিটেজগুলোর দেখভাল এবং দখলমুক্ত করার কাজ সম্পূর্ণ না করেই যখন গ্রামীণ এলাকাকে হেরিটেজ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে হেরিটেজ কমিটি, তখন সেই কাজ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আগে যা তালিকায় আছে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা উচিত, তারপর নতুন স্থান অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবা যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণ এলাকার হেরিটেজগুলি কি শুধুমাত্র কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি তাদেরও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।