“পাকিস্তানের কোনও নাগরীককে টার্গেট করিনি”, সফল ‘অপারেশন সিঁদুর’ সাংবাদিকদের স্পষ্ট করল ভারতীয় সেনা

জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ সাম্প্রতিক নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার কড়া জবাব দিল ভারত। ওই হামলার ঠিক দুই সপ্তাহ পর পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে সফলভাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামক একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। এই অভিযানে নিয়ন্ত্রণ রেখা (LoC) পেরিয়ে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অন্তত ৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। ভারতের এই বিরাট সাফল্যে দেশজুড়ে প্রশংসার ঝড় উঠেছে।

পহেলগাঁও হামলা ছিল মুম্বইয়ের পর সবচেয়ে বড়

বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি এই হামলাকে মুম্বই হামলার পর ভারতের মাটিতে ঘটা অন্যতম বড় জঙ্গি হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “মুম্বই হামলার পর পহেলগাঁওয়ের ঘটনা সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা। পরিবারের সামনে পুরুষদের মাথায় গুলি করে মারা হয়েছে। কাশ্মীরের উন্নয়নের উপরেই হামলা।” তিনি আরও জানান যে, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন টিআরএফ (The Resistance Front), তবে এরা মূলত জইশ-ই-মহম্মদ এবং লশকর-ই-তৈবার মতো বড় সংগঠনগুলির হয়ে ছোট ছোট গোষ্ঠীর মাধ্যমে কাজ করে চলেছে।

সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত স্পষ্ট

ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসবাদকে মদত দিয়ে চলেছে এবং এই ধরনের ছোট ছোট জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আশ্রয় ও পরিকাঠামো দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। পহেলগাঁও হামলার পিছনেও পাকিস্তানের মদত স্পষ্ট।

গভীর রাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে নিখুঁত হামলা

পহেলগাঁও হামলার উপযুক্ত জবাব দিতে ভারতীয় সেনা গভীর রাতে পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে এই অভিযান পরিচালনা করে। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পরিচিত এই অভিযানটি অত্যন্ত সুচিন্তিত ও নিখুঁতভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সামরিক সূত্র অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চিহ্নিত মোট ৯টি সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির এবং লঞ্চপ্যাডে নির্ভুল হামলা চালানো হয়। এই অতর্কিত এবং সুনির্দিষ্ট হামলায় জঙ্গি ঘাঁটিগুলি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। সূত্রগুলি আরও নিশ্চিত করেছে যে, এই অভিযানে কোনও সাধারণ নাগরিকের হতাহতের খবর নেই।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বিবৃতি ও জঙ্গি নিহতের সংখ্যা

বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই অভিযানের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কিছুক্ষণ আগে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরু করে, পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে আঘাত হানে, যেখান থেকে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ এই সফল সামরিক অভিযানে অন্তত ৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে ভারতীয় পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।

দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস ও প্রশংসা

ভারতীয় সেনার এই দ্রুত এবং সফল অভিযানে দেশজুড়ে উচ্ছ্বাস ও প্রশংসার বন্যা বইছে। সাধারণ মানুষ এই পদক্ষেপকে পহেলগাঁও হামলার যোগ্য জবাব হিসেবে দেখছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সেনার বীরত্বের প্রশংসা করছেন।

সামগ্রিকভাবে, ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুধুমাত্র পহেলগাঁও হামলার প্রতিশোধ নয়, এটি সন্ত্রাসবাদ এবং যারা তাদের মদত দেয় তাদের প্রতি ভারতের কঠোর মনোভাবের একটি স্পষ্ট বার্তা। এই অভিযান বুঝিয়ে দিয়েছে যে, ভারত তার নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্ত পেরিয়ে যে কোনও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।