অর্জুন সিংয়ের গড়ে BJP-তে ভাঙন, গেরুয়া সংস্রব ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন শতাধিক কর্মী

আগামী বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে নীচুতলার নেতা-কর্মীদের দলত্যাগ রাজ্য বিজেপিকে চাপে রাখছে। এরই মধ্যে এবার ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বীজপুর বিধানসভা এলাকায় বিজেপিতে দেখা গেল বড়সড় ভাঙন। ব্যারাকপুর বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ‘খাসতালুক’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকাতেই শতাধিক বিজেপি কর্মী ও সমর্থক যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

রবিবার (মে ৪, ২০২৫) বীজপুরের মঙ্গলদীপ ভবনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বীজপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুবোধ অধিকারীর হাত ধরে বিজেপির এই কর্মীরা ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন। এই যোগদান অনুষ্ঠানে বিধায়ক সুবোধ অধিকারী ছাড়াও হালিশহর পুরসভার চেয়ারম্যান শুভঙ্কর ঘোষ, হালিশহর টাউন তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি প্রবীর সরকার এবং অন্যান্য স্থানীয় তৃণমূল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্জুন সিংয়ের গড়ে এমন বড় সংখ্যক নেতা-কর্মীর দলত্যাগ স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে অর্জুন সিংয়ের পরাজয়ের পর থেকেই ব্যারাকপুর এবং সমগ্র উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় বিজেপির সংগঠন অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং গোষ্ঠী কোন্দলও প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। জেলা স্তরে শক্তিশালী এবং গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নেতার অভাবও অনুভূত হচ্ছে। এই সার্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে ওই কর্মীরা বিজেপির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে এই জেলায় বিজেপির সংগঠন আরও বড় ধাক্কা খেল। দল এবং দলীয় সংগঠন নীচুতলার নেতা–কর্মীদের উপরই টিকে থাকে, সেখানেই এমন ভাঙন দলের ভিত নড়বড়ে করে দেয়।

দলবদল প্রসঙ্গে বীজপুরের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুবোধ অধিকারী বলেন, “‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নযজ্ঞে সামিল হওয়ার জন্য এবং রাজ্যের উন্নয়নে শরিক হতে চেয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁরা যোগদান করেছেন। আগামী দিনে বিজেপি আরও ভাঙবে।” তিনি আরও জানান, এই কর্মীরা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অন্যদিকে, শতাধিক কর্মী দলবদলের ঘটনা সামনে আসার পর বিজেপি বেশ চাপে পড়ে গিয়েছে এবং এই দলবদলকে গুরুত্বহীন প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। এই জেলার এক বিজেপি নেতা এই ঘটনার পর বলেছেন, “‌যাঁরা বিজেপি ছেড়ে দিয়ে যোগদান করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের কাউকেই আমরা চিনি না‌।”‌ এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছে যে যারা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে, তারা বিজেপির সক্রিয় কর্মী ছিল না।

বাংলা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের মাটি শক্ত করতে যেখানে সব দল ঝাঁপিয়ে পড়েছে, সেখানে অর্জুন সিংয়ের গড়েই বিজেপিতে এমন ভাঙন দলের জন্য একটি বড় চিন্তার বিষয়। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের দলবদল অবশ্যই বিজেপির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।