১১ দিন পার, পাক রেঞ্জার্সের কবলে বাংলার জওয়ান, মুক্তির আশায় দেশ ও পরিবার

পশ্চিমবঙ্গের রিষড়ার বাসিন্দা, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর জওয়ান পূর্ণম কুমার সাউ প্রায় ১১ দিন ধরে পাকিস্তানে বন্দি রয়েছেন। ফিরোজপুর সীমান্তে কর্তব্যরত অবস্থায় ভুলবশত তিনি সীমান্ত পেরিয়ে গিয়েছিলেন এবং তখনই পাকিস্তানের হাতে আটক হন। এই পরিস্থিতিতে একটি নতুন ঘটনা ঘটেছে যা তাঁর পরিবারকে আশার আলো দেখাচ্ছে – রাজস্থানের ফোর্ট আব্বাসে বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন এক পাক রেঞ্জার্স জওয়ান।

পূর্ণম কখন বাড়ি ফিরবেন, সেই উদ্বেগ পরিবারের মধ্যে তীব্রভাবে বিদ্যমান, বিশেষ করে পহেলগাঁওয়ের জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে। এতদিন পূর্ণমকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত বারবার পাকিস্তানের সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের প্রস্তাব দিলেও পাকিস্তানের তরফে পূর্ণমকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। তবে গতকাল, অর্থাৎ রবিবার, রাজস্থানের ফোর্ট আব্বাসে যখন বিএসএফ এক পাক রেঞ্জার্স জওয়ানকে আটক করে, সেই খবর পৌঁছানোর পর রিষড়ার পূর্ণমের পরিবার নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছে। তাঁরা মনে করছেন, এবার হয়তো এই আটক পাক জওয়ানের বিনিময়ে পাকিস্তান পূর্ণমকে ছেড়ে দিতে রাজি হবে।

১১ দিন পার হয়ে গেলেও পূর্ণম কুমার সাউয়ের পাকিস্তানের বন্দিদশা কাটেনি। তাঁর স্ত্রী রজনী সাউ, যিনি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা, গত সপ্তাহে ছেলে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পাঠানকোটে বিএসএফের ২৪ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) সঙ্গে দেখা করেছিলেন। বিএসএফের পক্ষ থেকে পরিবারকে পূর্ণমকে ফিরিয়ে আনার জন্য সবরকম চেষ্টা চলছে বলে আশ্বস্ত করা হয় এবং ধৈর্য ধরতে অনুরোধ জানানো হয়। রজনী তখন বলেছিলেন, প্রয়োজনে তিনি দিল্লিতে বিএসএফের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গেও দেখা করবেন। দিন যত গড়াচ্ছে, পরিবারের দুশ্চিন্তা ততই বাড়ছে। এরই মধ্যে পাক রেঞ্জার্স জওয়ানের আটকের খবর তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি এবং নতুন আশা এনে দিয়েছে। পাঠানকোটে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর রজনী বলেছিলেন, “আমি সন্তুষ্ট, আশাবাদী। বিএসএফ ফিরিয়ে আনবে বলেছে, আধিকারিকরা বলেছেন কথা চলছে।” এখন এই আটক পাক জওয়ানের ঘটনাই পূর্ণমের দ্রুত মুক্তির সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করেছে বলে পরিবার বিশ্বাস করে।