এবার ‘ছায়াসঙ্গী’ জিয়ারুল হককে নিয়ে বিজেপির অন্দরে তীব্র অস্বস্তিতে দিলীপ! কে এই ব্যক্তি?

সম্প্রতি দিঘায় রাজ্য সরকারের আয়োজনে নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন অনুষ্ঠানে যোগদান করে বিজেপির অন্দরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। 1 মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে সস্ত্রীক এই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর সাথে একই টেবিলে বসে খোশগল্প করতেও দেখা যায় তাঁকে। বিরোধী দলনেতাদের মধ্যে একমাত্র তিনিই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনা রাজ্য বিজেপিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, চলছে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। তবে দিলীপ ঘোষ একা নন, এই ঘটনায় তাঁর সাথে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন তাঁর এক ‘ছায়াসঙ্গী’ জিয়ারুল হক।
কে এই জিয়ারুল হক? গত এক বছরের বেশি সময় ধরে দিলীপ ঘোষের সাথে ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসেবে দেখা যাচ্ছে জিয়ারুল হককে। তাঁর কার্যকলাপ নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতে শুরু করেছে। আইপিএল খেলা দেখা থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের যে সমস্ত সংস্থা রয়েছে, সেগুলিতেও দিলীপ ঘোষের সাথে জিয়ারুলের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনেও দিলীপ ঘোষের পাশে তাঁকে দেখা গেছে। এই জিয়ারুল হককে কেন দিলীপ ঘোষ সর্বত্র সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, জিয়ারুল হক কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় দিলীপ ঘোষকে নিয়ে গিয়েছেন এবং সেখানকার উচ্চ পদাধিকারী ও ডিরেক্টরদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে যে, জিয়ারুল বড়সড় একটি সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন এবং নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে ব্যস্ত। এই জিয়ারুল হক কেন দিলীপ ঘোষের এত ঘনিষ্ঠ, তা নিয়ে দলের অন্দরেও গুঞ্জন চলছে।
একাধিক ছবিতে দেখা গেছে, জিয়ারুল হক কখনো এইমসের ডিরেক্টর, কখনো আইসিএআরের ডিরেক্টর, আবার কখনো শিয়ালদহ বা খড়গপুর ডিভিশনের ডিআরএম-দের সাথে বৈঠক করছেন। এসব ছবি তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। অভিযোগ, তিনি উচ্চ পদাধিকারীদের ‘ম্যানেজ’ করে বিভিন্ন কাজের টেন্ডার পাইয়ে দিচ্ছেন বা কাজ করিয়ে নিচ্ছেন। এই জিয়ারুল হকের কার্যকলাপে দিলীপ ঘোষের কী আগ্রহ রয়েছে এবং কেন তিনি তাঁকে সর্বত্র সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন, সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে।
দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, দিলীপ ঘোষের দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়ার ব্যাপারে এই জিয়ারুল হকই মধ্যস্থতাকারী ছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে। ইডেনে খেলা দেখা থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রেই জিয়ারুলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। কথার সমর্থনে কিছু ছবিও সামনে এসেছে। বিজেপির অন্দরে এও শোনা যাচ্ছে যে, বর্তমানে বারাসাত জেলার সভাপতি রাজীব পোদ্দার, কামরুল, রাজীব খান, নব মিতা চক্রবর্তীর স্বামী এবং মানস দাসদের নিয়ে জিয়ারুল বিশেষ পরিকল্পনা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে যে, জিয়ারুল হক কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের সাথে বৈঠক করে কাজ বের করে নিচ্ছেন এবং কর্মী নিয়োগও করছেন। কাদের নিয়োগ করছেন? কিসের ভিত্তিতে নিয়োগ? মোটিভ কী? এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠছে দলের অন্দরেই। এমনিতেই দলের একটা বড় অংশের মধ্যে দিলীপ ঘোষের দিঘা সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, এবার এই জিয়ারুল ‘তত্ত্ব’ সামনে আসায় পদ্ম নেতার অস্বস্তি আরও বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।