“বিশ্বাস করতে পারিনি, স্বপ্নেও ভাবেনি…”-মাধ্যমিকে দ্বিতীয় সৌম্য পাল জানালেন মনের কথা

পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মাধ্যমিক পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলে রাজ্যের মেধা তালিকায় যুগ্ম দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর হাই স্কুলের ছাত্র সৌম্য পাল। সে মোট ৬৯৫ নম্বর পেয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। মন দিয়ে পড়াশোনা এবং ভালো ফলের আশা করলেও, একেবারে রাজ্যের প্রথম তিনজনের মধ্যে চলে আসবে, তা সে স্বপ্নেও ভাবেনি। তাই ফল দেখে খুশির সঙ্গে খানিকটা চমকেও উঠেছিল সে।

নিজের এই অভাবনীয় সাফল্য সম্পর্কে সৌম্য তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, “খুব ভালো লাগছে। বিশ্বাসই করতে পারিনি প্রথমে যে আমি দ্বিতীয় হয়েছি।” ফল প্রকাশের সাংবাদিক সম্মেলন শোনার পরেই প্রথম জানতে পারে তার সাফল্যের কথা। তারপরেই একের পর এক ফোন আসতে শুরু করে তার কাছে, শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনের জোয়ারে ভেসে যায় সে।

কী ভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিল সৌম্য? মাধ্যমিকের যুগ্ম দ্বিতীয় স্থানাধিকারী জানাচ্ছে, সে যখনই সময় পেত, মন দিয়ে পড়াশোনা করত। কোনও নির্দিষ্ট বাঁধা ধরা রুটিনের চেয়ে নিয়মিত অভ্যাসেই বেশি জোর দিত। সৌম্য জানিয়েছে, শিক্ষকেরা যে ভাবে বলেছেন তেমনই পড়াশোনা করেছে সে। তার এই সাফল্যের পিছনে মা-বাবা ও শিক্ষকদের অবদানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে কৃতজ্ঞচিত্তে জানিয়েছে সৌম্য।

পড়াশোনার পাশাপাশি অন্য শখ বা হবিও রয়েছে সৌম্যর। গান শোনা, ছবি আঁকা এবং তবলা বাজানো তার অন্যতম পছন্দের বিষয়, যা তাকে পড়াশোনার বাইরেও সতেজ থাকতে সাহায্য করেছে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে এই মেধাবী ছাত্র জানিয়েছে, সে বিজ্ঞান নিয়ে পড়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চায়। এর সঙ্গেই একজন বিজ্ঞানী হওয়ারও ইচ্ছে রয়েছে তার।

আগামী দিনে যারা মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে, সেই সমস্ত ছোটদের জন্য বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে সৌম্য। সে বলছে, “শিক্ষকেরা যে ভাবে বলবেন, যে পথে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই মন দিয়ে পড়াশোনা করে যেতে হবে। তাদের কথা শুনলে এবং নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে গেলে তবেই মিলবে কাঙ্খিত সাফল্য।”

সৌম্য পালের এই সাফল্য বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর হাই স্কুলের জন্য এক বড় গর্বের মুহূর্ত। তার ফলাফল আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।