মেছুয়া বাজারের রেশ না কাটতেই দাউদাউ করে জ্বলছে চিনার পার্কের নামকরা রেস্তোরাঁ

মেছুয়া বাজারের অগ্নিকাণ্ডের শোকাবহ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শহরে ফের একবার আগুনের লেলিহান শিখা দেখা গেল। এবার স্থান চিনার পার্ক, এবং নিশানায় একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ। সাতসকালে যখন শহরের বেশিরভাগ মানুষ দিনের শুরু করছিলেন, ঠিক তখনই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।

বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে চিনার পার্ক এলাকার ওই নামী রেস্তোরাঁটিতে হঠাৎ করেই আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে ধোঁয়া দেখা যায়, এবং মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করে রেস্তোরাঁটি। আগুনের শিখা এবং তার সঙ্গে বের হওয়া কালো ধোঁয়া দ্রুত আশেপাশের এলাকাকে ঢেকে ফেলে, যা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ প্রাণের ভয়ে আশেপাশের বাড়ি থেকে দৌড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। ভোরের শান্ত পরিবেশ নিমেষেই চিৎকার আর উদ্বেগে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে কালবিলম্ব না করে দমকলের দুটি ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয়। দমকলকর্মীরা সেখানে পৌঁছেই আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। একদিকে যেমন রেস্তোরাঁর সামনের অংশ থেকে জল দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলতে থাকে, তেমনই পিছনের দিকে তখনও জ্বলতে থাকা আগুন নেভানোর জন্য দমকলকর্মীরা রেস্তোরাঁর ছাদে উঠে কাজ শুরু করেন। আগুন এতটাই দ্রুত ছড়িয়েছিল যে তা নেভাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় তাঁদের। প্রায় ৪৫ মিনিটের অক্লান্ত এবং সাহসিক প্রচেষ্টার পর আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে পুরোপুরি নির্বাপিত করা সম্ভব হয়নি তখনও, রেস্তোরাঁর কিছু অংশে ছোট ছোট ‘ফায়ার পকেট’ থেকে তখনও ধোঁয়া বের হচ্ছিল এবং আগুন জ্বলছিল। দমকলকর্মীরা সেগুলিকে সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলার (কুলিং ডাউন) কাজ করছিলেন।

কী কারণে এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট অথবা রেস্তোরাঁর গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। আগুন সম্পূর্ণ নিভে যাওয়ার পর ফরেনসিক দল এবং দমকলের আধিকারিকরা বিস্তারিত তদন্ত করে আগুনের সঠিক কারণ নির্ণয় করবেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই ভয়াবহ আগুনে রেস্তোরাঁটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে গেছে, সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন মাত্র দু’দিন আগেই বড়বাজারের মেছুয়া বাজারে একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৫ জন মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সেই ঘটনায় বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকায় বহু মানুষ হোটেলের ভিতরেই আটকে পড়েছিলেন এবং ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছিল। সেই শোক এবং আতঙ্ক এখনও মানুষের মন থেকে মুছে যায়নি। এরই মধ্যে চিনার পার্কের এই অগ্নিকাণ্ড শহরের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং জনবহুল এলাকায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষা নিয়ে আবারও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল। পরপর এই দুটি ঘটনা শহরে এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।